খুবিতে ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর পাঠবৃত্ত’ সেমিনার অনুষ্ঠিত
মো: আল-মাহফুজ শাওন,খুলনা
খুলনার বাংলা ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর পাঠবৃত্ত’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনের মাল্টিপারপাস রুমে ‘কথা হোক বিস্তর: উপভোগ্য হোক জীবন নামক অবিকল্প উপহার’ প্রতিপাদ্যে এ আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য । তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রবণতা কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটিভেশনাল সেমিনার, কাউন্সেলিং কার্যক্রম এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সহপাঠীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা চলমান থাকলে তা অন্যদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে এ প্রবণতা রোধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান উপাচার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য বলেন, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন মানুষের সঙ্গে অনেক মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত—তাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো চরম সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান।
সেমিনারে কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান । তিনি বলেন, আত্মহত্যার পথে অগ্রসর হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বিষণ্নতায় ভোগেন। তবে এটিকে একক কোনো রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি নানা মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণের সম্মিলিত ফল। তিনি আরও জানান, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবন হারায়, যার প্রায় ৭৫ শতাংশই মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশের মানুষ—যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বিশ্বখ্যাত লেখক, কবি ও দার্শনিকদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে মানুষের মানসিক জটিলতাও বেড়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও সহমর্মিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রধান ও কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. দুলাল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রফেসর ড. শেখ মো. রজিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকারকে সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী অনুসূয়া মন্ডল ও ঋত্তিকা কর্মকার। এতে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধানসহ শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।