জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ইউএনও'র কক্ষে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিক
আব্দুল আলীম,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে সংবাদ প্রকাশের জেরে ইউএনও'র কক্ষে হামলার শিকার হয়েছে দৈনিক কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি আমানউল্লাহ আমান। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীসুত্রে জানাগেছে, সম্প্রতি উপজেলার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করছিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরী। মতবিনিময় সভা চলাকালে ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক দলবল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে এবং সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলেন। এ সময় সাংবাদিকরা বলেন, ইউএনওর সাথে একটি বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে একটু পরে আপনার সাথে কথা হবে কিন্তু একথায় কর্ণপাত না করে বিএনপি নেতা সরকারি পুকুরের মাটি ও বালু উত্তোলনের দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করার জেরে দৈনিক কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি আমানউল্লাহ আমান এর উপর চড়াও হয় এবং তাকে গালিগালাজ করতে থাকে। এ সময় পেছন থেকে বিএনপি নেতার সাথে আসা কয়েকজন বিএনপি কর্মী সমর্থক সাংবাদিকদের সামনে কালবেলার উপজেলা প্রতিনিধি উপর হামলা চালিয়ে কিল ঘুসি মারতে থাকে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষেতলাল থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষেতলাল উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক করতোয়া পত্রিকার ক্ষেতলাল প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম জানান, ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে একটি বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করার সময় হঠাৎ বিএনপি নেতা সেখানে প্রবেশ করে এবং সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে সাংবাদিক আমানুল্লাহর উপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদুল মাসুদ আঞ্জুমান জানান ইউএনওর কক্ষে মারামারির ঘটনা একদমই ঠিক হয় নাই। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।
হামলার শীকার সাংবাদিক আমানউল্লাহ আমান বলেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুবকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে আমি কালবেলা পত্রিকায় "সরকারি পুকুরের মাটি বিক্রি করলেন বিএনপি নেতা"শিরোনামে একটি নিউজ প্রকাশ করি তার জেরে তারা আজ আমাকে ইউএনও সাহেবের কক্ষে তাঁর উপস্থিতিতেই আমাকে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আবুবকর সিদ্দিক সহ কয়েকজন মারধর করে, খবর পেয়ে পুলিশ আসলে পুলিশের সামনে আবার তারা আমাকে পুনরায় মারধর করে মোবাইল সহ আইডি কার্ড, আমার ব্যবহৃত ওয়ালেট, ড্রাইভিং লাইসেন্স সব ছিনিয়ে নেয়,পরে অবশ্য বিএনপি নেতা পার্থ আমার খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে ক্ষেতলাল থানায় জমা দেন এবং থানা থেকে আমার সহকর্মীরা সেগুলো নিয়ে আসে।
অভিযুক্ত
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা চৌধুরীর সাথেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ক্ষেতলাল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুল করিম জানান,সাংবাদিক আমানের ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে (ইউএনও অফিস) পৌঁছাই। সেখানে স্থানীয় সাংবাদিক এবং অন্যদের সাথে তার কথা-কাটাকাটি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি চলছিল। আমরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি এবং আমান কে পুলিশি নিরাপত্তায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের করে দিয়ে আসি। ওই সময় তার মোবাইল কেড়ে নেওয়ার একটি ঘটনা ঘটে। তবে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।"
এদিকে সাংবাদিক আমানের উপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এদিকে, সাংবাদিক আমানুল্লাহ আমান-এর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কালাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাফিউৎ জামান তালুকদার। এঘটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনতে হবে বলে প্রতিবাদে জানান তিনি।