মিঠামইনে পশুর হাটে ক্রেতা কম বিক্রেতা বেশি ,কম মূল্যে পশু বিক্রি করছে কৃষকরা
বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: আর মাত্র ৯ দিন পর কোরবানির ঈদ। মিঠামইনে নিয়মিত প্রতি মঙ্গলবার পশুর হাট বসলেও এ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি (পশু) গরু, মহিষ,ছাগল ,ভেড়া আমদানি হয়েছে আজ মঙ্গলবার ১৯ শে মে হেলিপ্যাড মাঠে । অন্যান্য দিন পশুর হাট বাজারের ভিতরে বসলেও কোরবানি ঈদের কারণে হেলিপ্যাড মাঠে পশুর হাট বসানো হয়েছে। হাওরে এ বছর ঈদের আনন্দ ম্লান করে দিয়েছে অকাল বন্যা । কৃষকদের মনে শান্তি নেই। তাদের চেহারা পাল্টে গেছে। অনেক কৃষক গো- খাদ্যের সংকটের কারণে গোয়ালের সবকটি গরু বাজারে নিয়ে আসছে বিক্রির জন্য। তাদের চোখে মুখে বিষন্নতার চাপ । এ বছর ভারতীয় গরুর আমদানি নেই। এবার দেশী গরুর আমদানি বেশি। বাজারে গৃহস্থের গরু , মহিষই বেশি। খামারিদের গরু বাজারে খুব কম দেখা গেছে। কৃষকরা জানান, কোরবানির জন্য ঘরে গরু নেই কোরবানি দিমু না, মহাজনের ঋন দিমু । সমিতির লোকজন কিস্তির জন্য পিছু ছাড়ছে না। অন্যদিকে হাওরে এখনো কিছু জমি পানির নিচে রয়েছে। যেগুলো কাটা হয়েছে সেগুলোই পঁচা অথবা ধানের ছাড়া গজিয়েছে। ধান না পেলে খামু কী ? । কৃষকের তথ্য মতে মিঠামইনে কোরবানির সংখ্যা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম হবে। বাজারের কোরবানির জন্য গরু ক্রয়ের ক্রেতারা সংখ্যা কম। অধিকাংশ দেশীয় গরু দেশের পশ্চিম অঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল এলাকার বেপারিরা ক্রয় করছে । তারা কম মূল্যে এসব গরু, মহিষ কৃষকের নিকট থেকে ক্রয় করে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম নিয়ে যাবে । ঢাকার গাবতলী হাটের বেপারি সোলাইমান জানান, আমরা ১ লক্ষ টাকা থেকে আড়াই লক্ষ টাকার গরু ক্রয় করছি । এ বছর দেশীয় গরুর চাহিদা বেশি। এসকল গরু বড় বড় বিভাগীয় শহরে কোরবানির হাটে তুলা হবে । গরু মহিষের পর এবার ছাগল ,ভেড়ার মুল্য কিছুটা বেশি। কারন যারা গরু কোরবানি দিতেন তারা এবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির কারণে ছাগল অথবা ভেড়া কোরবানি দিবেন বলে কয়েকজন ক্রেতা জানান। আদমপুরের কৃষক মমিনউল্লা বলেন," আমার গোয়ালের ৭ টা গরু লইয়া আইছি বেচবার লাগি , ক্ষেতের ধান পানিতে নষ্ট হইছে, গরুর খাওন নাই, গরু পালমু কেমনে নিজের খোড়াক জোগাড় করতে ওই টাস টাস ডাকবো , আবার গরু এর লাগি সব বেইচ্চা দিছি"। দুই মাস আগে ৫ গরুর দামে অহন ৭ গরু বেচতাছি । কি করুম এই বছর ছোডু মুডো একটা খাসি কোরবানি দিয়া দিমু । ঘাগড়া গ্ৰামের খালপাড় হাটির কৃষক রতন মিয়া বলেন, ৭০ হাজার টেহার গরু ৫২ হাজার টেহা দিয়া কিনছি , ২ মন মাংস হইবো । ৪ জনে মিইল্লা কোরবানি দিমু । আজকের বাজারে গরু খুব হস্তা। সামনের বাজারে আরো হস্তা হইবো । বনের লাগি গরু হস্তা বেইচ্চা দিতাছে । মিঠামইন পশুর হাটের ইজারাদার মোঃ শাহেরীল আলম তপন বলেন, প্রচুর পরিমাণে গরু আমদানি হয়েছে আজকের হাটে। অধিকাংশ পশ্চিমের বেপারিরা ক্রয় করছে এসব গরু, মহিষ। কৃষকরা দূর্যোগের কারনে কম মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছে। ভারতীয় গরুর আমদানি নেই। আজকের বাজারে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ ৫০ হাজার ও সর্বনিম্ন ১ লক্ষ বা তার কম টাকায় দেশি গরু বিক্রি হচ্ছে। পশুর হাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। কোন সিন্ডিকেট নেই। আমাদের নিজস্ব লোক মাইকিং করে ক্রেতা বিক্রেতাকে সতর্ক করে দিচ্ছে। মিঠামইন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হিজেল মাহমুদ বলেন, এ বছর মিঠামইনে কোরবানির জন্য ৯ হাজার ১১ টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। তবে দূর্যোগের কারনে আরো কমতে পারে। গো খাদ্যের জন্য ২৫ হাজার টন খাদ্যের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।