ধর্ষণের ক্ষেত্রে নীরবতা নয়, প্রতিবাদ হোক শক্তি
ধর্ষণ একটি ফৌজদারি অপরাধ, যা আইন, নৈতিকতা ও মানবিকতার বিরোধী। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের এই সমাজ ধর্ষণের শিকার নারীদের পায়ের নিচে ফেলে রেখেছে আর ধর্ষককে সমাজের আড়ালে আবডালে নিরাপদে আশ্রয় দিচ্ছে। নারী মানেই কি শুধু একটি দেহ? আমরা কেন নারীর সম্মান রক্ষা করতে ব্যর্থ?- সেটা কি একটা সুস্থ সমাজের প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়। পত্রিকার পাতা খুললেই শুধু ধর্ষণ আর ধর্ষণ। শিশু থেকে শুরু করে কিশোরীরা, এমন কি বৃদ্ধ নারীরাও রক্ষা পাচ্ছে না ধর্ষকের কালো থাবা থেকে। নারী, কিশোরী, বৃদ্ধা, এমন কি শিশুরাও নিরাপত্তার সাথে দিনে বা রাতে চলাচল করতে পারছেনা। এত আইন, এত প্রতিবাদ, এত শাস্তির বিধান রয়েছে, তবুও কেন ধর্ষণ থামছেনা?- তা এখন সকলের চোখে এক স্পষ্ট প্রশ্ন। তাহলে কি সত্যিই বাংলাদেশ নিরাপত্তার সংকটে? সমাজে নারীকে ভোগ্যপণ্য মনে করা হচ্ছে, তাদের সম্মান, মর্যাদা প্রদর্শন না করে, বরং তার নিরাপত্তা কেরে নেওয়া হচ্ছে। আট বছরের শিশু বোনের বাসায় বেড়াতে গিয়েও বোনের শশুর কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ধর্ষণ, মাদ্রাসার ছাত্রী ধর্ষণ, স্কুলের ছাত্রী ধর্ষণ, চলন্ত বাসে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ, মায়ের সামনে হাফেজ মেয়েকে ধর্ষণ- আর কত এমন ধর্ষণ এর কথা শুনতে হবে ?
আসলে হতাশাজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে পর্যাপ্ত আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ নেই। অপরাধী সাময়িক গ্রেফতার হলেও বেশির ভাগ সময় ক্ষমতার জোরে ঠিকই খোলা আকাশে ঘুরে বেড়ায়। আর ধর্ষিতা হয় আত্মহত্যা করে না হয় ঘর বন্দি হয়ে যায়। যথাযথ বিচারের অভাবে ধর্ষক আবারো একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হচ্ছে । এজন্য সরকারের উচিত ধর্ষণ প্রতিরোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা, ক্ষেত্রবিশেষে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করা। যাতে সকল ধর্ষক কোনো মেয়ের দিকে তার কালো থাবা বাড়ানোর আগে অন্তত ১০০ বার শাস্তির কথা চিন্তা করে। এজন্য দরকার হলে আইনের কঠোর থেকে কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরী । পাশাপাশি ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি যাতে পুরো একটা জাতি তাদের ছোট্ট শিশু নিয়ে, ভাই তার বোন নিয়ে, মা তার প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে নিয়ে, স্বামী তার স্ত্রীকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আর না ভোগে। তাই আমাদের সকলের উচিত সচেতন হওয়া, কোনো মেয়ের সাথে এমন ঘটনা ঘটলে তাকে সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করা এবং ধর্ষকের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা ।
লেখক-
মোছাঃ নিশি খাতুন
শিক্ষাবর্ষ: ২০২৩-২৪
বিভাগ: রাষ্ট্রবিজ্ঞান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া এবং
সহযোগী সদস্য, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মোবাইল:০১৩১৮৫০৬৪৬৯
E-mail- arjuakter74764@gmail.com