ব্রি’র সিনিয়র বিজ্ঞানী হয়েও চক্রান্তের শিকার ড. আমিনুল ইসলাম
ঝুটন,গাজীপুর প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে গত ৩ মে কৃষি বিজ্ঞানী ড. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয় এরপর ৫ মে তিনি কর্মস্থলে যোগ দিতে গেলে, প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশ তাকে 'ফ্যাসিবাদের দোসর' ও দুর্নীতিবাজ আখ্যা দিয়ে তার কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেয় এবং বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে।
ড. আমিনুল ইসলাম গভীর চক্রান্তের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশের কৃষি গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলেও, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ড. আমিনুল ইসলাম ব্রি-এর একজন অত্যন্ত দক্ষ, সৎ এবং জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী। দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এবং উচ্চফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার এই সততা, পেশাদারিত্ব এবং যোগ্যতার মূল্যায়ন করেই সরকার তাকে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।
তবে তার এই পদোন্নতি এবং দায়িত্ব গ্রহণ কে সহজভাবে নিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ও বাইরে ওঁৎ পেতে থাকা একটি দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদী চক্র। ড. আমিনুল ইসলাম মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই এই চক্রটি তাদের অবৈধ সুবিধা হারানোর ভয়ে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত চক্রান্ত শুরু করে।
অভিযোগ উঠেছে যে, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই মহাপরিচালকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন ভিত্তিহীন অভিযোগ, বেনামি চিঠি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনগড়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অত্যন্ত সুকৌশলে তার অতীত ট্র্যাক রেকর্ডকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা, যার মূল উদ্দেশ্য তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা।
ড. আমিনুল ইসলামের মতো একজন নিবেদিতপ্রাণ বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে এমন নোংরা চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ব্রি-এর সাধারণ কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং দেশের প্রবীণ কৃষি বিজ্ঞানীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রি-এর এক ঊর্ধ্বতন বিজ্ঞানী বলেন, ড. আমিনুল ইসলাম একজন সজ্জন এবং কাজের প্রতি শতভাগ অনুগত মানুষ। তিনি মহাপরিচালক হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা নিজেদের আখের গোছাতে অভ্যস্ত, তারা প্রতিষ্ঠানের এই অগ্রগতি সহ্য করতে পারছে না। আমরা এই চক্রান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি ‘ব্রি’। এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বসে কেউ যেন চক্রান্তের মাধ্যমে স্থবিরতা তৈরি করতে না পারে, সেদিকে সরকারের উচ্চমহলের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একই সাথে, ড. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান এই চক্রান্তের পেছনে মূল হোতা কারা, তা খতিয়ে দেখতে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইতিমধ্যে ড. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ড. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ করা হচ্ছে তা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তিনি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন।