রামিসার নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোক -মুগদায় শিশু সুরক্ষা নিয়ে বিশেষ সেশন
মাসুদ মাহাতাব,ঢাকা
রাজধানীর মুগদায় সুবিধাবঞ্চিত বয়স্ক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী এক সচেতনতামূলক আয়োজন। ফুলের হাসি ফাউন্ডেশনের সার্বিক সহযোগিতায়, সুফিয়া খাতুন ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং সিড ফাউন্ডেশনের পরিচালনায় জে.এস. গ্রামার হাইস্কুলে আয়োজিত “ফুলের হাসি (শি.বি.খা) সুবিধাবঞ্চিত বয়স্কদের স্কুল”-এর বিশেষ এই সেশনে শিশু সুরক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষার গুরুত্ব ও সামাজিক সচেতনতার নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রাজধানীর মিরপুরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশু রামিশার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত সবার মাঝে শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করে।
সেশনে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সার্টিফাইড মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলর, জনস্বাস্থ্য পেশাজীবী ও সমাজকর্মী মোঃ মাজহারুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জে.এস. গ্রামার হাইস্কুলের চেয়ারম্যান শামসুজ্জাহান বাদল।
আলোচনায় মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন,
“মানুষের অনুভূতি, চিন্তা ও আচরণ—এই তিনটি বিষয়ই তার মানসিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। ইতিবাচকভাবে চিন্তা করতে পারলে অনেক মানসিক সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন,
“ভালোবাসা, যত্ন ও মানবিক আচরণ একজন মানুষের জীবনে নতুন করে বাঁচার শক্তি জোগায়। মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
সেশনে অংশগ্রহণকারী বয়স্ক শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার গুরুত্ব, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং মাসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আগ্রহভরে আলোচনায় অংশ নেন এবং নিজেদের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন।
এসময় শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে জে.এস. গ্রামার হাইস্কুলের চেয়ারম্যান শামসুজ্জাহান বাদল বলেন,
“রামিশার হত্যাকাণ্ড আমাদের মানবিক মূল্যবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একটি শিশুর নিরাপত্তাহীনতা পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। আমরা এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
তিনি আরও বলেন,
“অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক অবস্থা ও চলাফেরার বিষয়ে পরিবারকে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। পরিবার সচেতন হলে শিশুরা আরও নিরাপদ থাকবে।”
শিক্ষার গুরুত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“শিক্ষার কোনো বয়স নেই। জীবনের যেকোনো পর্যায়ে শিক্ষা মানুষকে নতুন স্বপ্ন দেখতে শেখায়। যারা নানা প্রতিকূলতায় পড়াশোনা থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন, তাদের আবার শিক্ষার আলোয় ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী উদাহরণ।”
আয়োজকরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের মাঝে শিক্ষা, সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।