ভিজিএফ কার্ড বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার, পাল্টা প্রতিবাদ পুমদী ইউনিয়ন বিএনপি সম্পাদকের “প্রমাণ দিতে পারলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবো”
জাহাঙ্গীর আলম
সঞ্জিত চন্দ্র শীল
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ভিজিএফ কার্ড বিক্রির অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন তিনি। একইসঙ্গে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও।
সম্প্রতি স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পুমদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ১০০টি ভিজিএফ কার্ড এক চাল ব্যবসায়ীর কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি কার্ড ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগ প্রকাশের পর এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও জাহাঙ্গীর আলম এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। রবিবার (২৪ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন,
“আমার নামে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো ভিজিএফ কার্ড বিক্রি করিনি। বরং একটি মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“আমাকে ১০০টি ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়েছে—এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির কাছেই এ বিষয়ে লিখিত তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে আমি কার্ড বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করবো।”
জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দলের জন্য কাজ করে আসছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসন ও দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে দলের তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাদের জানা নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে পুমদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার ইসলাম বাবুল বলেন,
“দল থেকে ১ হাজার ভিজিএফ কার্ড সংগঠনের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছিল। ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিকভাবে দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে সেগুলো বিতরণ করা হয়েছে। তবে জাহাঙ্গীর আলমকে এককভাবে কোনো ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও বলেন,
“জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। আমরা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করলেও স্থানীয় সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
সঞ্জিত চন্দ্র শীল
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
২৫/০৫/২০২৬ ইং
মোবাইল: ০১৭২৩৫০২০৪৩