হাওরের জলদস্যু সর্দার ডাকাতি সহ ৪৩ মামলার আসামি ধীরা গ্ৰেফতার
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের ভৈরব,আশুগঞ্জ থেকে হাওরের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্ৰাম ও সিলেটের সুনামগঞ্জ পর্যন্ত মেঘনা নদীতে নৌ ডাকাত ও জলদস্যু সর্দার দ্বীন ইসলাম সরকার ওরফে ধীরা ডাকাত ( ৫০) কে গ্ৰেফতার করেছে ভৈরবের নৌ পুলিশ। গত রবিবার ২৪ শে মে রাতে আশুগঞ্জ থানা এলাকার ৪ তলা পূর্ব পাড়া গ্ৰাম থেকে পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্ৰেফতার করে। গ্ৰেফতারকৃত ধীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৪ তলা পূর্ব পাড়া গ্ৰামের মৃত মোগল সরকারের পুত্র । পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে হাওরের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চিন্তায় ,সহ ৪৩ টি মামলা রয়েছে। ভৈরব থেকে দিঘীরপাড়, নিকলী , মিঠামইন, ইটনা, ধনপুর,খালিয়াজুড়ি হয়ে মারকুলি পর্যন্ত সঙ্গ বদ্ধ এ সকল ডাকাতির সাথে জড়িত রয়েছে। মেঘনা নদীতে অন্ততঃ ২০ টি মালবাহী ট্রলার সারাবছর এ নদী পথে চলাফেরা করে। ইটনা, মিঠামইন, ধনপুর, খালিয়াজুড়ি, মধ্যনগর ,পাহাড়পুর , আজমিরীগঞ্জ, মারকুরি , দিরাই পর্যন্ত চলাচল করে এ সকল মালবাহী ট্রলারের চালক ও ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায়ই ডাকাতি করে ব্যবসায়ীদের মালামাল ও টাকা পয়সা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নৌকার চালকরা জানান, এ সকল ডাকাতির ঘটনার সাথে ধীরা ডাকাত জড়িত। এমনকি দীর্ঘদিন যাবত সে এ নদী পথে ডাকাতি করে আসছে । লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। ভৈরব নৌ ফাড়ির ইনচার্জ এ,কে,এম, মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ধীরা কে গ্ৰেফতার করছেন ।সর্বশেষ গত ১৪ ই মে মেঘনা নদীতে আলোচিত ডাকাতির ঘটনায় সে জড়িত। ভৈরব পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট বাদাম ব্যবসায়ী শামিম ও তার দুই সহোদর ১৪ ই মে দিনের বেলায় পূবালী ব্যাংক ভৈরব শাখা থেকে ৪০ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে। পরে বাদাম ক্রয়ের জন্য ১৬ ই মে নবীনগর যায়। যাওয়ার সময় ১৫ জন কর্মচারী সহ তারা ২ ভাই রওনা দেয় একটি ইঞ্জিন চালিত ট্রলার নিয়ে। পথে ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ৬ টা সময় লালপুরের নিকটে কাঁঠালবাগান এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে ধীরা ডাকাতের দল এসে তাদের উপর হামলা চালায়। তারপর ব্যবসায়ী প্রানের ভয়ে সঙ্গে থাকা ৩৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দেয়। এছাড়াও ট্রলারে থাকা মোবাইল ফোন, ও অন্যান্য জিনিস নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ভৈরব থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের হয় । নৌকার চালক সজিব মিয়া ডাকাত দলের সাথে সংযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে । ডাকাত দলের ব্যবহৃত ট্রলার থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ নৌকার মাঝি সজিব কে আটক করছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাশী চন্দ্র শর্মা জানান, ডাকাতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্ট, ডিজিটাল তথ্য ও যোগাযোগের মাধ্যমে সঙ্গ বদ্ধ ডাকাত দলের সদস্যদের গ্ৰেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো জানান, আসন্ন কোরবানি ঈদ কে সামনে রেখে নৌ পুলিশের টহল জোরদার করা হচ্ছে। মালবাহী নৌকার মাঝিরা জানান, ভৈরব থেকে ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্ৰাম হয়ে বিগত ১ বছরে প্রায় ছোট বড় ৩০-৩৫ টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু মাঝি ও ব্যবসায়ীরা থানায় অভিযোগ করতে সাহস পাননি। মিঠামইনের মোতালেব মাঝি ,ইটনার ধনপুরের নয়ন মাঝি , সমারচরের আসাদ মাঝি সহ অন্যান্য নৌ চালকরা জানান, তারা সারা বছরই মালামাল পরিবহনে ডাকাতের ভয়ে সঠিক ভাবে চলাফেরা করতে পারেনি। বিশেষ করে বর্ষাকালে বিগত সময়ে বেশি ডাকাতি হয়েছে মেঘনার এই নদী পথে। মাঝিরা ধীরা ডাকাতের গ্ৰেফতারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। তারা তাদের সঙ্গীদের গ্ৰেফতারের দাবি জানান। পাশাপাশি নৌ পুলিশের টহল জোরদারের দাবি জানান।