বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মনিরের স্ত্রী সন্তান নিয়ে গ্ৰামের বাড়িতে আর ঈদ করা হলো না

Admin ২৬ May ২০২৬ · Tuesday · ০৯:০১ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মনিরের স্ত্রী সন্তান নিয়ে গ্ৰামের বাড়িতে আর ঈদ করা হলো না
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মনিরের স্ত্রী সন্তান নিয়ে গ্ৰামের বাড়িতে আর ঈদ করা হলো না নিমিষেই ঝড়ে গেল ৩ টি তাজা প্রাণ

বিজয় কর রতন,হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি: মনির হোসেন (৩৫) পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি করিমগঞ্জ নোয়াবাদ এলাকায় সাইটুটা দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক ( শরীরচর্চা) বিভাগে শিক্ষকতা করতেন। কিশোরগঞ্জ শহরে অন্নেষা উচ্ছাস কোচিং সেন্টারের পরিচালক ছিলেন। তিনি ছাত্র জীবনে ওলি নেওয়াজ খান কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছেন। নিহত মনির ৫ ভাই বোনের মধ্যে সে বড় । ছোট ভাই আশরাফুল ইসলাম ইমন কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজে গনিতে অনার্সে অধ্যায়নরত । অপর ভাই মিলাদ হোসেন ইটালী প্রবাসী। মনির একটি সুখী পরিবারের সন্তান ছিলেন। মনিরের বাবা সাফাজ উদ্দিন বেপারি ধানের ব্যবসা করেন। ও মাতা আনোয়ারা বেগম গৃহিণী। তিনি কান্না জর্জরিত কন্ঠে বলেন, সোমবার সকালে মনিরের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। দুপুরে খাবারের পর কিশোরগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে গ্ৰামের বাড়ি মিঠামইনের মহিষের কান্দি আসবে। কথা ছিল আজ মঙ্গলবার মিঠামইন হাট থেকে কোরবানির গরু কিনবে। কিন্তু ঘাতক গাড়ি চাপায় মনিরের সব আশা ভরসা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে  মুহূর্তের মধ্যে । স্ত্রী সন্তান নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না। ৩ জনের প্রানই কেড়ে নিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় চাল ভর্তি একটি পিকআপ গাড়ি । একটি মাত্র সন্তান আয়ান (৮) ও স্ত্রী মুন্নি ( ৩০) কত আশা নিয়ে বাড়ি আসবে বলে পরিবারের সাথে ঈদ করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু নিমিষেই জীবন প্রদীপ নিভে গেল, ঝড়ে গেল ৩ টি তাজা প্রাণ। মনির পরিবার ও শিক্ষার্থীদের কাছে ছিলেন, একজন পরিশ্রমী ও স্বপ্নবাজ মানুষ। স্ত্রী মুন্নি আক্তার ছিলেন সংসারের প্রাণকেন্দ্র ছোট আয়ান ছিল বাবা মায়ের চোখের মনি। প্রতিবেশী পল্লব হাসান নামে মনিরের মামাতো ভাই বলেন, আমরা একই সঙ্গে পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা। জীবনে যতবার দেখা হয়েছে ততবার আমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করতো । ও সবসময় বলতো আমার কোচিং সেন্টারে আসবি । কিশোরগঞ্জ থেকে ২ ঘন্টা পথ পাড়ি দিয়ে এসে মাত্র ১০ মিনিটের রাস্তা বাড়ি পৌঁছানো দূরত্বের কাছে হেরে গেল মনির সহ ৩ টি তাজা প্রাণ। মা বাবার সাথে আর ঈদ করা হলো না। এই পরিবারে এবার কোরবানি ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। ৩ টি কোফিনের কাছে পরিবারের সদস্যদের শুধু আহাজারি। ৩ টি ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখে একটু পর পর ধরফর করছে। মনিরের সাজানো স্বপ্নের সমাপ্তি হলো । নিহত মনিরের প্রতিবেশীরা বলেন, এক সঙ্গে ৩ টি তাজা প্রাণের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মহিষের কান্দি গ্ৰামে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ভাই আশরাফুল চিৎকার করে বলেন, দুপুরে যে মানুষটি হাসিমুখে বাসা থেকে বেরিয়ে ছিল সন্ধ্যায় ভাই ,ভাবির নিথর দেহ ফিরবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। এই দূর্ঘটনা শুধু ৩ টি প্রানই নেয়নি ধ্বংস করে দিয়েছে একটি পরিবারের সকল স্বপ্ন সব আশা। ছোট্ট আয়ানের অসমাপ্ত শৈশব, মায়ের স্নেহ, আর বাবার সংগ্ৰামের গল্প শুধু এখন সৃতি হয়ে থাকবে। কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে অলওয়েদার সড়কে এক মুহুর্তের অব্যবস্থাপনা কত গুলো জীবনের আলো নিভিয়ে দিতে পারে তাজা প্রাণ। মনিরের গ্ৰামের বাড়ি মহিষের কান্দি মাদ্রাসা মাঠে নামাজের জানাজায় হাজারো লোকের সমাগম।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

খাল পুনঃখনন শেষে অব্যবহৃত প্রায় ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

খাল পুনঃখনন শেষে অব্যবহৃত প্রায় ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিলেন ইউএনও

মো: আল-মাহফুজ শাওন :প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সততা এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে দায়িত্বশীলতার এক অন...

২৯ July ২০২৬ · Wednesday · ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ