সাভার থানার ওসি আরমান আলী ক্লোজড, পুলিশ লাইনে সংযুক্ত
সামরুল হক, স্টাফ রিপোর্টার:
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা, অভিযুক্তদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলীকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শামীমা পারভীন। তিনি জানান, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও সাম্প্রতিক ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত ২২ মে সাভারের রাজাসন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বলে পরিচিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীমের আস্তানায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যান দেশ টিভি ও এসএ টিভির তিন সাংবাদিক। সংবাদ সংগ্রহ চলাকালে সেখানে উপস্থিত শামীমের সহযোগীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় তিন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শামীমকে গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থানার কিছু অসাধু কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ প্রশাসন।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সাভার মডেল থানার একজন এসআই ও দুইজন এএসআইকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। অভিযোগ ওঠে, অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও সখ্যতা ছিল। তদন্তের অগ্রগতিতে এবার একই ঘটনায় থানার ওসি আরমান আলীকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হলো।
এদিকে ওসিকে ক্লোজ করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে মাদক ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।