“গত বাজারে বেচবার লাগি ৪ গরু আনছিলাম দাম হস্তা দেইখ্যা বেচ্চি না , আছকা বাজারে বালা দাম পাইছি”
বিজয় কর রতন,হাওর অঞ্চল প্রতিনিধি: রাত পোহালেই ঈদ মিঠামইনের শেষ পশুর হাট আজ বুধবার। সকাল থেকে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে কোরবানির পশু কিনতে মিঠামইনের হাটে ক্রেতারা যাচ্ছে। হাওরে এখন বিভিন্ন রাস্তা ঘাট পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব খারাপ। যানবাহন ও চলছে না আর নদী পথে ট্রলার চললেও সময় বেশি লাগছে । গত মঙ্গলবার ১৯ শে মে মিঠামইনের সাপ্তাহিক পশুর হাটে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় পশুর আমদানি হলেও ক্রেতা সংখ্যা কম ছিল। বেপারির সংখ্যা বেশি। বেপারিরা কম মূল্যে গত হাটে পশু ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কোরবানির হাটে চড়া মূল্যে পশু বিক্রি করছে। এক সাপ্তাহের ব্যবধানে গত পশুর হাটের চেয়ে এই মঙ্গলবার ও আজ বুধবারের হাটে চড়া মূল্যে পশু বিক্রি হচ্ছে। অনেক গৃহস্থ গত হাটে মুল্য কম থাকায় বিক্রি না করে গরু , মহিষ, ফেরত নিয়ে গেছে। তারা বাড়িতে নিয়ে বেপারি দের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর যে সকল কৃষক বেশি দামের আশায় গরু বিক্রি না করে এই মঙ্গলবার ও বুধবারের হাটে তুলছে তারা মোটামুটি ভালো দাম পেয়েছেন। আজমল মিয়া নামের রানীগঞ্জের কৃষক তিনি গত হাটে ৪ টি গরু বিক্রির জন্য নিয়ে এসে ছিলেন। দাম কম থাকায় বাড়িতে ফেরত নিয়ে যায় ।এই বুধবারে হাটে আবার ৪ টি গরু নিয়ে আসে । কথা হয় তার সাথে মিঠামইন পশুর হাটে তিনি বলেন," গত মঙ্গলবারে বেচবার লাগি ৪ টা গরু আনছিলাম দাম হস্তা দেইখ্যা বেচ্চি না বাইত লইয়া গেছি গা , আছকার বাজারে দাম পাইছি। আওন যাওনের খরচটা গিয়া বালা টেহা লাভ থাকবো "। এরকম অনেক কৃষক গো- খাদ্যের অভাবে গরু , মহিষ, ছাগল, ভেড়া, গত হাটে পানির ধরে বিক্রি করে দিয়েছে। আজকের হাটে পাইকার কম থাকায় পশুর মুল্য বেড়ে গেছে ।কারন পশুর আমদানি বেশি। আদমপুর ও শিবপুরের মিরাশ আলী ও নজরুল মিয়া বলেন, কোরবানির লাগি একটি গরু একটি মহিষ কিনছি দাম একটু বেশি নিছে, বৃষ্টির মধ্যে যে যেমনে পারে গরু মহিষ কিনতাছে । ছাগল ভেড়ার দাম ও বেশি। আকবর আলি মিয়া নামে এক ক্রেতা ১৮ কেজি ওজনের একটা খাসি ক্রয় করেন ২৪ হাজার টাকা দিয়ে। তিনি বলেন, সবোর্চ্চ প্রতি কেজি দেড় হাজার টাকা দাম পড়ছে । কালকা ঈদ তাই বেশি দাম দিয়া কিইন্না নিছি। সামনে আর পশুর হাট নাই । আগামী কাল ঈদ । মিটামইন বাজারে গরুর খাজনা অতিরিক্ত নিচ্ছে বলে কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেছেন। হবিগঞ্জের মাদনা এলাকার একজন ক্রেতা জানান, কোন কোন মাইনষের কাছ থেইক্কা গরু পিছে এক হাজার দুই হাজার টাকা কিনুয়া ও বেচুয়ার কাছ থেইক্কা নিতাছে। আমরা বিদেশী লোক আমরার কথা কওয়ার কোন সুযোগ নাই । এ ব্যাপারে পশুর হাটের ইজারাদার শাহেরীল আলম তপন শিকদারের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ৩০০ থেকে প্রকার ভেদে ৪০০ টাকা নেওয়া হয় ।হাশিল বেশি নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা কোন প্রমাণ দেখাতে পারবে না। মিঠামইন বাজারে আজ পশুর হাটে সবোর্চ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় একটি গরু বিক্রি হয়েছে। পশুর আমদানি যেমন বেশি মুল্য ও বেশি গত হাটের চেয়ে। একজন গরু বেপারি মুসলেহ উদ্দিন তার বাড়ি নান্দাইল। তিনি জানান, গত হাটের চেয়ে গরু মহিষের মুল্য বেশি। এ হাটে খামারির গরুও আসছে । তবে গৃহস্থের নজর দেশী গরুর দিকে । খামারির চেয়ে দেশী গরু চড়া মুল্য দিয়ে কিনছে ক্রেতারা। কসাই ফুল মিয়া জানান, খামারির গরু খেতে স্বাদ কম , দেশী গরুর প্রতি ক্রেতার আগ্ৰহ বেশি। অনেক খামারির গরু ফেরত নিয়ে যাচ্ছে। কারন দামের সাথে ক্রেতার দামের মিল নেই। কিশোরগঞ্জের চৌদ্দশত এলাকার খামারি রমজান আলী বলেন, ৮ টি গরু নিয়ে আসতে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আজকেই শেষ বাজার , কাষ্টমারে যে দাম কয় হেই দামে খামারির গরু বেচলে পোষাইতো না। একটা গরুর পিছে অনেক টেহা খরচ করতে হয়। গরু ফেরত লইয়া যামু লস দিয়া গরু বেচতাম না। এই ব্যাপারে মিঠামইন প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হিজায়েল মাহমুদ বলেন , পশুর হাটে আমাদের মেডিকেল টিম রয়েছে। এছাড়াও পশু চিকিৎসকদের ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসার কাজে লাগিয়েছি। পশুর হাটে কোন সমস্যা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিবে।