পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে ব্যতিক্রমী আয়োজন
মোঃ শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত দর্শনার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের মাধ্যমে ঈদের সকল কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। কারাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে সকল কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে এবং কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি।
কারাগার সূত্রে জানা যায়, বর্তমান জেলার মোঃ সোহরাব হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারকে একটি আধুনিক ও রোল মডেল কারাগারে পরিণত করতে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মাদককে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
বন্দীদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল কলিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। বিশেষ অ্যাপসের মাধ্যমে বন্দীরা নির্ধারিত তিনটি নম্বরে ১০ মিনিট করে কথা বলতে পারবেন। নির্ধারিত সময় শেষ হলে কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে যাবে। এছাড়াও কোনো ধরনের অননুমোদিত যোগাযোগ বা ডিউ না থাকলে মোবাইল রিং পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কারাগারের প্রতিটি ওয়ার্ডের টেলিভিশন ব্যবস্থাপনাতেও আনা হয়েছে নতুন প্রযুক্তি। মেমোরি কার্ড সিস্টেম পরিবর্তন করে এমন একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র বিটিভি, বিটিভি নিউজ ও খেলার চ্যানেল দেখা যাবে। অন্য কোনো চ্যানেল দেখানোর প্রয়োজন হলে তা জেলার সাহেবের অনুমোদনের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত ডিভাইসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। পুরো সিস্টেমটি জেলার নিজেই তদারকি করছেন বলে জানা গেছে।
ঈদ উপলক্ষে বন্দীদের জন্য উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়। সকালে পরিবেশন করা হয় সেমাই ও মুড়ি। দুপুরের খাবারে ছিল পোলাও, গরুর মাংস, খাসির মাংস, সোনালী মুরগির রোস্ট, সালাদ, পান-সুপারি, মিষ্টি ও কোমল পানীয়। রাতের খাবারে পরিবেশন করা হয় সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।
এছাড়াও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। সকালে সেমাই ও মুড়ি এবং দুপুরে পোলাও, গরু, খাসি, মুরগির রোস্ট, সালাদ ও কোমল পানীয় পরিবেশন করা হয়।
ঈদের দিন কারাগারে আগত দর্শনার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পাশাপাশি সেমাই দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় এবং শিশুদের জন্য রাখা হয় চিপস ও চকলেটের বিশেষ আয়োজন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম, জেলার মোঃ সোহরাব হোসেনসহ কারাগারের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দীদের মাঝে মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কারাগার ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।