আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠকে স্টেডিয়াম করার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলমের
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়দের খেলা-পরবর্তী জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের ইন্সট্রাক্টর হিসেবে চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অষ্টঘড়িয়া পাপ্পু ক্রীড়া চক্র আয়োজিত ফ্রি গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রত্যন্ত এক অঞ্চল আচমিতায় বসেছিল এক আন্তর্জাতিক ফুটবলের আসর।নাইজেরিয়া ও উগান্ডার একঝাঁক বিদেশি ফুটবলার আর দেশের জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে কটিয়াদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জেলার সর্ববৃহৎ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে কটিয়াদি উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের 'অষ্টঘড়িয়া পাপ্পু ক্রীড়াচক্র'-এর আয়োজনে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে ৩৩ তম লক্ষ টাকা প্রাইজমানি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের এই জমকালো ফাইনাল খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম মাঠে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দর্শকদের কষ্ট লাঘবের জন্য আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপান্তরের ঘোষণা দেন এবং আগামী বছর টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই তা বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।
এদিকে এদিন ফাইনাল খেলায় শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে পূর্ণশক্তি নিয়ে মাঠে নামে ‘বোয়ালিয়া ফুটবল একাডেমি’ বনাম ‘বেতাল ছুবেজ্জামান একাদশ’। প্রত্যন্ত এলাকায় এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচ উপভোগ করতে কিশোরগঞ্জ ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ছুটে আসেন অন্তত ২০ হাজার দর্শক। পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলাটি গোলশূন্য থাকায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যনির্ধারণী ট্রাইবেকারে। সেখানে বেতাল ছুবেজ্জামান একাদশকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বোয়ালিয়া ফুটবল একাডেমি।
আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি বিএনপি নেতা মো. আশফাক আহমেদ জুনের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতায় এবং কটিয়াদি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব তোফাজ্জল হোসেন খান দিলিপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
খেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল,জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান জিএস শরীফ,সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন,কটিয়াদি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন,কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ,সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ, কটিয়াদী সরকারি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ ও আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে জমকালো গোল্ডকাপ ও এক লক্ষ টাকার প্রাইজমানি তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।