টেকনাফে মানবপাচারকারীদের বিচারের দাবি জানালেন টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল হোসাইন
টেকনাফে মানবপাচার ও অপহরণের মতো ভয়াবহ অপরাধ দিন দিন জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। সীমান্তবর্তী এই জনপদে সংঘটিত বিভিন্ন মানবপাচার, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল হোসাইন মানবপাচারকারী ও অপহরণকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক ও স্থায়ী বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শুধুমাত্র অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। অনেক সময় দেখা যায়, গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন কারণে অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও অনিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পায় এবং অপরাধীরা নতুন করে অপরাধ সংঘটিত করার সুযোগ পেয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন,উখিয়া-টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার, অপহরণ, মাদক এবং বিভিন্ন সংঘবদ্ধ অপরাধের কারণে আলোচিত। এসব অপরাধের ফলে দেশের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুণ্ন হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকাও হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষ মানবপাচারকারী চক্রের প্রতারণা ও অপহরণকারীদের শিকার হয়ে সীমাহীন দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।
নুরুল হোসাইন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সফল অভিযানে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত, সুষ্ঠু বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের উৎসাহিত করে এবং সমাজে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি করে।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানবপাচার ও অপহরণের মতো জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এসব অপরাধের পেছনে থাকা মূলহোতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, টেকনাফকে মানবপাচার ও অপহরণের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক অভিযান এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল হোসাইন বলেন, মানবপাচারকারী ও অপহরণকারী অপরাধীদের শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত, দৃষ্টান্তমূলক ও স্থায়ী বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী যে-ই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। জনগণের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ এবং ন্যায়ভিত্তিক বিচার প্রতিষ্ঠাই সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবপাচার ও অপহরণের মতো অপরাধ নির্মূলে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী বিচার নিশ্চিত করে টেকনাফে শান্তি, নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।