শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সংবাদ

পারিবারিক বনভোজনের প্রথম অভিজ্ঞতা

অনলাইন ডেস্ক ১০ June ২০২৬ · Wednesday · ১০:১৯ অপরাহ্ণ
পারিবারিক বনভোজনের প্রথম অভিজ্ঞতা

 

 

ছোটবেলা থেকেই আমার একটা পারিবারিক পিকনিক এর শখ ছিল। ছুটির দিনে কোনো এক গাছের ছায়ায় আমরা চাদর বিছিয়ে পরিবারের সবাই একসাথে খাবার খাচ্ছি এমন দৃশ্য আমার মনের মাঝে ছিল। কিন্তু তা কোনো বছরেই পূরণ হতো না কারণ আব্বুর অফিস থেকে প্রতি বছর বনভোজনের আয়োজন করতো। আমাদের সেখানেই যেতে হতো ফলে একান্ত পারিবারিক বনভোজন আমার স্বপ্নেই আবদ্ধ ছিল এতোদিন। সেটাই যে হঠাৎ করে সত্যি হয়ে যাবে ভাবিনি। বলা যায় হঠাৎ করেই পরিকল্পনা করা ঘুরতে যাওয়ার। দূরে কোথাও আব্বু কিচ্ছুতেই যাবে না তাই শেষমেশ ঠিক হলো আমরা রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি যাবো। বড়ো আপু আর তার বাচ্চারা যেতে পারলো না কারণ ওরা মাত্রই  ঘুরে এলো আর সামনে যেহেতু ওদের পরিক্ষা তো সময় বের করতে পারলো না ওরা। শেষমেশ আব্বু,আম্মু, আমি,আমার ছোট ভাই রাইয়ান, মেজো আপু আর মেজো দুলাভাই যাবো  ঠিক হলো। যাবার দিন আমরা সকালে খাবার খেয়ে দুপুরের খাবার টা বাসা থেকেই নিয়ে নিলাম। সময় মতো আমাদের গাড়িও চলে আসলো। গাড়িওয়ালা আমাদের পরিচিত,আমরা মামা বলেই ডাকি ওনাকে। আমরা রওনা হয়ে গেলাম। রাস্তার দুপাশের সুন্দর মনোরম দৃশ্য দেখতে দেখতে আমরা কুষ্টিয়া পৌছে গেলাম। তখনই ঠিক হলো যে যাবার পথে একবার বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজার টা দেখে গেলে ভালো হয়। যেই ভাবা সেই কাজ, আমরা প্রথমে গেলাম ফকির লালন শাহের মাজারে। মাজারের সামনের দিকে বাহারি জিনিসপত্রের দোকান আর দামও তেমনি চড়া। তবে রাইয়ান মানতে নারাজ, সে একটা একতারা না নিয়ে থামলো না। এরপর আমরা গেলাম মাজারের ভেতরে। প্রবেশপথ টা সারি সারি গাছে সাজানো এরপর একেবারে সামনেই মাজারের ঘর। একটি ঘরের মধ্যে ফকির লালনের মাজার আর বাইরে তার বেশ কিছু শিষ্যদের মাজার। এর মাঝে আমার আম্মুর নজর কেড়েছিল অন্য ২ টি মাজার। মুল মাজারটি থেকে সেগুলো আলাদা এবং কিছুটা বামদিকে। আমার আম্মু সেটার কাছে গিয়ে দেখালো যে ২ জন স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি মাজার। যা দেখে আমার আব্বু আম্মুকে অভয় দিল যে তারা ২ জন মারা গেলে তাদের কবরও এমন পাশাপাশি হবে। এমনি মজার স্মৃতি ও সুন্দর কিছু ছবি তুলে নিয়ে আমরা মাজার ত্যাগ করলাম। এরপর আমরা গেলাম রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি। এই জায়গা টাতে প্রায় বছর ১৬ কি ১৭ আগে আমরা  নাকি এসেছিলাম। তখন আমি খুবই ছোট।  সেবার এসেছিলাম আব্বুর অফিসের বাৎসরিক বনভোজনে। সেই কাহিনী কিছুই মনে নেই আমার শুধু আম্মুর থেকে গল্প শুনি সেবার আমি এতোই কান্নাকাটি করেছিলাম যে আম্মু কিছুই ঘুরে দেখতে পেরেছিল না।আম্মুকে বলেছি এবার আমি নিজে ঘুরে দেখাবো তোমাকে। কুঠিবাড়ি তে ঢোকার আগে আমরা যোহর এর নামাজ পড়তে বাইরের একটা ছোট মসজিদে নামলাম। সেখানে ওযু করার ব্যবস্থা আছে আবার মহিলাদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থাও ছিল। আমরা সেখানেই যোহরের নামাজ টা সেরে নিলাম। এরপর কুঠিবাড়ির পাশে একটা আম গাছের ছায়ায় আমরা দুপুরের খাবার খেতে বসলাম। সেখানে একটা চাদর বিছিয়ে সব খাবার গুলো গাড়ি থেকে নামানো হলো। মেজো ভাইয়াই সব গুছিয়ে দিল। আমি,আম্মু আর আপু প্লেট গুলো ধুয়ে খাবার পরিবেশ করলাম এরপর সবাই একসাথে খেতে বসলাম,মামা শুরুতে সংকোচ করলেও আমাদের জোরাজোরিতে তাকেও বসতে হলো। আমরা খাওয়া শেষ করে প্লেট, গ্লাস আর সাথে ময়লাগুলো ডাস্টবিনে ফেলে জায়গা টা আবার আগের মতোই করে দিলাম। এরপর আব্বু আমাদের সবার জন্য টিকিট কাটলো। আমরা সবাই ভেতরে ঢুকলাম।  কিচ্ছুক্ষণ পর পিছে তাকিয়ে দেখি মামা নেই,উনি ঢুকেনি। পরে ভাইয়া মামাকে ডেকে আনলো যে আমরা মামার জন্যও টিকিট কেটেছি। কুঠিবাড়ির বামদিকে একটা পুকুর, আমরা শুরুতে সেদিকেই গেলাম। এরপর আসলাম মুল কুঠিতে। কুঠিটা দ্বিতল। প্রথম তলাটা আমরা ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম আর মুগ্ধ হচ্ছিলাম। সেখানে অনেকগুলো কামরা পাশাপাশি এবং একেকটি কক্ষে একধিক দরজা। রাইয়ান তো এঘর থেকে ওঘর দৌড়ে দৌড়ে  সবার আগে সবকিছু দেখছিল আর বানান করে পড়ে বুঝার চেষ্টা কিরছিল কোনটা কি। সেখানেই রাইয়ান প্রথম বারের মতো সামনে থেকে পালকি দেখে সে কি খুশি! এরপর আমরা গেলাম উপরের তলায়। সেখানে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের শয়নকক্ষে দাঁড়িয়ে আমরা অনেকটা সময় পার করলাম গল্পে গল্পে। পুরো বাড়ী জুড়ে রবীন্দ্রনাথের নানা সাহিত্যকর্মের নিদর্শন ছিল। আমরা সেগুলো দেখে বেশ মজা পাচ্ছিলাম। কিন্তু সময় আর আমাদের সেখানে থাকতে দিলো না। কুঠিবাড়ির ভেতরের জায়গাতেই একটা ছোট নামাজের জায়গা ছিল দর্শনার্থীদের জন্য। সেখানেই আমরা সবাই আসর এর নামাজ পড়ে নিলাম। কথা ছিল এরপর আমরা বাসায় চলে যাবো কিন্তু আমি আবার অন্য ফন্দি বের করলাম। আম্মু বাড়ীর বাইরে সেভাবে যায়না আর আমাদের জেলাতে তেমন বড়ো নদী না থাকায় আম্মু কখনো বড় কোনো নদী দেখেনি। আমি জানতাম কুঠিবাড়ির অদূরেই পদ্মা নদীর শিলাইদহ ঘাট। মামা রাস্তা চিনতো না কিন্ত আমি বললাম গুগল ম্যাপ দেখে রাস্তাটা বলছি আমি, আপনি চলুন। মামাকেও রাজি হতে হলো। কয়েক মিনিটের মাঝে আমরা এসে গেলাম ঘাটে। গাড়ি থেকে নেমে আমি আম্মুর চোখের দিকেই চেয়ে ছিলাম যেন আম্মুর চোখেই আমি সেদিন নদীর সৌন্দর্য দেখতে চেয়েছিলাম। আম্মু, আব্বু ঘাটে বসলো। আমি, রাইয়ান,আপু আর ভাইয়া সরু সিড়ি বেয়ে ঘাটের কিনারায় নামলাম।আব্বু উপরে বসে বকছিল যে উপর থেকেই তো দেখা যায় কেন এতো কাছে যেতে হবে। কিন্তু সেই বাধা কি আর আমরা মানি! অল্প সময় পরই সেখানে থেকে আমাদের উঠতে হয়েছিল কারণ এর মাঝে  আব্বুর ডাকাডাকি থামেনি। আমরা উঠলাম তখন থামলো। এরই মধ্য দিয়েই আমাদের সেদিনের পারিবারিক বনভোজন শেষ হলো। আর আমরা সারাদিনের সুন্দর স্মৃতি মনে করতে করতে বাড়িতে ফিরে আসলাম।

ফাহমিদা ইয়াসমিন মায়েদা, শিক্ষার্থী, 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

কুষ্টিয়ায় পাটবীজ নিয়ে দূর্ণীতি,  ভেজাল ও নিম্নমানের পাটবীজে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি

কুষ্টিয়ায় পাটবীজ নিয়ে দূর্ণীতি, ভেজাল ও নিম্নমানের পাটবীজে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি

 নজরুল  ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়াঃকুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি...

১৩ June ২০২৬ · Saturday · ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করবো-ইসরাত জাহান দিপা

মুমুরদিয়া ইউনিয়নের ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করবো-ইসরাত জাহান দিপা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার...

১৩ June ২০২৬ · Saturday · ১২:১২ পূর্বাহ্ণ