খুলনায় ‘গ্রেনেড বাবুর’ বাড়িতে যৌথ বাহিনীর অভিযান, ভাই জনি আটক
খুলনা প্রতিনিধি,
খুলনা মহানগরে সন্ত্রাসী ও মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী বাবু ওরফে ‘গ্রেনেড বাবুর’ বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে তার ভাই মাহামুদুন চৌধুরী জনিকে আটক করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নগরীর সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে তল্লাশি চালান। এ সময় সেখান থেকে মাহামুদুন চৌধুরী জনিকে আটক করা হয়।
খুলনা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) অমিত কুমার বর্মন জানান, সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবেই গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সেখান থেকে জনি নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রনি চৌধুরী ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’র নেতৃত্বাধীন কথিত সন্ত্রাসী সংগঠন ‘বি কোম্পানি’র বিরুদ্ধে খুলনা মহানগরীতে একাধিক হত্যা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। খুলনা সদর থানা পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে গ্রেনেড বাবুর নাম রয়েছে প্রথম সারিতে।
এদিকে মাহামুদুন চৌধুরী জনির বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি মোংলা বন্দর কাস্টমস এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (সিঅ্যান্ডএফ) ভবন দখলের চেষ্টা করেন। এছাড়া সংগঠনটির সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও কিছুদিন আগে নিজেকে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) রেজাউর রহমান জানান, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হরিণটানা থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইমন মোল্লা, সোনাডাঙ্গা থানার সন্ত্রাসী রনি শেখ ওরফে কাবাসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। একই অভিযানের অংশ হিসেবে গ্রেনেড বাবুর বাড়িতেও অভিযান চালানো হয় এবং সেখান থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন অভিযানে নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।