গাংগাটিয়া বাজারের রজনী রবিদাসের বাড়ির সামনে খালের উপর কালভার্ট নির্মাণের দাবি*
সঞ্জিত চন্দ্র শীল
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হোসেনপুর উপজেলার গাংগাটিয়া বাজার সংলগ্ন রজনী রবিদাসের বাড়ির সামনের খালের উপর কালভার্ট না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় ২০টি হিন্দু পরিবারের মানুষ। বাড়িতে যাওয়ার কোনো রাস্তা না থাকায় বিদ্যুতের পিলার দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। শিশু-বৃদ্ধ থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগী—সবার জন্যই এটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
এই দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানিয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষুদিরাম রবিদাস।
স্হানীয় সূত্রে জানা যায়, গাংগাটিয়া বাজার সংলগ্ন রজনী রবিদাসের বাড়িতে প্রায় ২০টি পরিবারের ৩ শত জন লোকের বসবাস। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার জন্য কোনো রাস্তা নেই। খালের উপর দিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায় বিদ্যুতের পিলার। এই পিলার দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা।
স্থানীয়রা আরও জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই খালে পানি বেড়ে যায়। তখন যাতায়াত একেবারে বন্ধ হয়ে যায়। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া-আসা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেদনার বিষয় হলো, এলাকার কোনো মানুষ মারা গেলে তার লাশ বাড়ি থেকে বের করার মতো কোনো রাস্তা নেই। খালের উপর দিয়ে লাশ নিয়ে যেতে গিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় স্বজনদের। এ কারণে মানবিকভাবেও এলাকাবাসী চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ক্ষুদিরাম রবিদাস বলেন, “বাজার সংলগ্ন উত্তর পাশে রজনী রবিদাসের বাড়ির সামনে একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণ করলে এই পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব হবে। চলাফেরা সহজ হবে, শিশুরা নির্বিঘ্নে স্কুলে যেতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাজী নাহিদ ইভা মহোদয় কাছে বিনীত প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, “উপরোক্ত সমস্যাগুলি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করে গাংগাটিয়া বাজার সংলগ্ন রজনী রবিদাসের বাড়ির সামনে একটি ছোট কালভার্ট নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমাদের পরিবারবর্গ ও এলাকাবাসী আপনার নিকট সারাজীবন চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।”
এলাকাবাসী জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা বহুবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই এবার তারা পত্রিকার মাধ্যমে প্রশাসন ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাজী নাহিদ ইভা সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আবেদনটি পেয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের দুর্ভোগ লাঘবই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”