কয়রার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে জোনাল অফিসের বিবৃতি
এসকে এম মহসিন রেজা
উপজেলা প্রতিনিধি (খুলনা)
রবিবার (১৪ জুন) খুলনার উপজেলা কয়রার বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কয়রার জোনাল অফিসের অফিসিয়াল facebook ভেরিফাই পেজে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে,কয়েকদিন যাবত কয়রা উপজেলার বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিদ্যুৎ সম্পর্কিত বিভিন্ন নেতিবাচক লেখা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। কয়রা উপজেলার সম্মানিত বিদ্যুৎ গ্রাহকদের কয়রা উপজেলার বিদ্যুৎ বিতরণ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য জানা প্রয়োজন। নিম্নে আপনাদের সদয় অবগতির জন্য কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
১। কয়রা উপজেলায় সাতক্ষীরা গ্রীড থেকে আশাশুনি(কয়রা) ৩৩ কেভি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সাতক্ষীরা গ্রীড থেকে কয়রা সাব স্টেশনএর দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। বর্ণিত ৩৩ কেভি লাইনটি অনেক পুরাতন এবং চিংড়ি-ঘের, নদী- নালার মাঝখান দিয়ে এসেছে। সম্পূর্ণ লাইনটি কাঠের পোল এবং কাঠের ক্রস-আর্ম দ্বারা নির্মিত। পোল এবং ক্রস-আর্ম কাঠের হওয়ায় বিভিন্ন সময় ইনসুলেটর ক্র্যাক করে কাঠের ক্রস-আর্ম এবং পোলে আগুন লাগা এবং কাঠের ক্রস-আর্ম ভেঙে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। ৩৩ কেভি লাইনে ফল্ট হলে গ্রিডে গিয়ে শাটডাউন নিতে হয় সেই ক্ষেত্রে কয়রা থেকে সাতক্ষীরা গ্রীডে যেতে ২.৩০ ঘন্টা থেকে ৩.০০ ঘন্টা সময় লাগে। দীর্ঘ ৩৩ কেভি লাইন ঘের এবং নদীর মাঝখান দিয়ে হওয়ায় কোন ফল্ট হলে তা সনাক্ত করে এবং নিরসন করতে অনেক সময় লেগে যায়। ভৌগলিক এরিয়া ও লাইনের অবস্থার কারনে সময় লাগে এখানে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের কোন অবহেলা নেই। যখনই লাইনে ত্রুটি দেখা দেয় সেটা যত রাতই হোকনা কেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরা সাথে সাথে লাইন চেকিং করতে বেরিয়ে যায় এবং লাইন চালু করার ব্যবস্থা নেয়।
২। অনেকের মধ্যে ধারনা আমরা খুলনা থেকে কেন বিদ্যুৎ আনি না। খুলনা গ্রীড সাবস্টেশন হতে কয়রা উপজেলার দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। দূরত্ব বেশি হওয়ায় খুলনা গ্রীড থেকে কয়রা উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে বর্তমানে সাতক্ষীরা থেকে যে ভোল্টেজ পাওয়া যায় খুলনা থেকে হলে ভোল্টেজ আরও কমে যাবে সেক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানো সম্ভব হবেনা এবং দুরত্ব বেশী হওয়ায় বিভ্রাট হলে তা নিরসনে আরও বেশী সময় লাগবে। তাই খুলনা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়না।
৩। যখন লোডশেডিং আসে অনেকের ধারনা কয়রা উপজেলায় কম লোড বরাদ্ধ দেয়া হয় এটা ঠিক না। যখন লোডশেডিং আসে তখন মোট লোডকে প্রতিটি উপজেলার সর্বোচ্চ চাহিদা অনুসারে শতকরা হিসাবে সমভাবে বন্টন করা হয় এক্ষেত্রে কম লোড বরাদ্ধ দেওয়ার সুযোগ নেই। যখন লোডশেড আসে তখন পর্যায়ক্রমে কয়রা উপজেলার ফিডারগুলিতে সমহারে লোডশেড করা হয়।
৪। যেহেতু কয়রা উপজেলা সুন্দরবন বেস্টিত এলাকা সুতরাং এখানে লাইনের নিচে প্রচুর পরিমান গাছপালা রয়েছে উক্ত গাছপালার কারনে বাতাস বা বৃষ্টি হলে লাইনের উপর গাছের ডাল পড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়। তাই সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে কেউ লাইনের নিচে গাছ লাগাবেন না এবং পল্লী বিদ্যুৎতের কর্মীরা লাইনের নিচে গাছের ডালপালা কাটতে গেলে সহযোগিতা করবেন।
৫। কয়রা উপজেলায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও কয়রা জোনাল অফিস কাজ করে যাচ্ছে এরই ধারাবাহিকতায় ৩৩কেভি লাইনের ৫০% ক্রস-আর্ম ও ইনসুলেটর পরিবর্তন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বাকি ৫০% পরিবর্তনের কাজ পর্যায়ক্রমে দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে।
৬। পাইকগাছায় একটি গ্রীড সাবস্টেশন স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। পাইকগাছা-কয়রা আসনের এমপি মহোদয় নিজে উক্ত কাজের তদারকি করছেন। গ্রীড সাবস্টেশনের কাজ সম্পন্ন হলে কয়রায় ৩৩কেভি লাইনের সমস্যার সমাধান হবে।
বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিদ্যুৎ সম্পর্কিত বিভিন্ন নেতিবাচক লেখা যারা লিখেন তাদের প্রতি অনুরোধ রইল বাস্তবতা এবং সত্যতার আলোকে জেনে বুঝে তারপর আপনার সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করবেন তা না হলে সাধারন মানুষ আপনাদের এরুপ লেখায় বিভ্রান্ত হবে ।
ধনবাদান্তে
কর্তৃপক্ষ
কয়রা জোনাল অফিস