রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
সারাদেশ

করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

অনলাইন ডেস্ক ১৫ June ২০২৬ · Monday · ০৩:৩০ অপরাহ্ণ
করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

 

 

 

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী  ৩নং করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের আগামী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন ইস্যুতে ইতোমধ্যে উত্তাপ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার ভোটার অধ্যুষিত এ ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতায় নির্বাচনী আমেজ ধীরে ধীরে জমে উঠছে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে চেয়ারম্যান পদে চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেতে পারে।

জানা গেছে,বর্তমান চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ নাদিম মোল্লা প্রথমে আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে চাইলে তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ দলের সমর্থিত প্রার্থী বাদল মাস্টারকে ২৮৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অতীতে নাদিম মোল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাবেক সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিন ও সাবেক আইজিপি ও সাবেক সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ এর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও এলাকায় পরিচিত ছিলেন।

আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে লায়ন মোহাম্মদ নাদিম মোল্লা বলেন, “জনগণ চাইলে আমি আবারও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারি। তবে সবকিছু নির্ভর করবে নির্বাচনের পরিবেশ ও পরিস্থিতির ওপর।”

অন্যদিকে,করগাঁও  ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শরাফউদ্দিন লস্কর পারভেজ  প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবে জোর আলোচনায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনি বর্তমানে করগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পাশাপাশি কটিয়াদি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যও রয়েছে। তার মরহুম পিতা শাফীউদ্দিন লস্কর এবং তার ভাই হুমায়ুন কবির লস্কর অতীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে এলাকায় তার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ বলেন,বিগত দিনের মত আগামী দিনে আমি জনগণের সমর্থন নিয়ে আল্লাহর রহমতে করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রাস্তাঘাট নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক ও সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ। বিগত সরকারের আমলে বর্তমান চেয়ারম্যান কোথাও কোনো উন্নয়নের চিহ্ন বসাতে পারেনি। রাস্তাঘাটসহ অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি।করগাঁও ইউনিয়ন সবদিক থেকে উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে।বিএনপি সরকার বর্তমানে ক্ষমতায় থাকায় আমি আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হলে করগাঁও ইউনিয়নকে আধুনিকায়ন করে সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।যেখানে শিক্ষা,স্বাস্থ্য,কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে’।এদিকে দলীয় ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে,শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ সব সময় অসহায় ও বিপদ গ্রস্থ সহ এলাকার সকল মানুষের পাশে ছিলেন।দলীয় নেতাকর্মীরা জানান,শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ নব্বইয়ের স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের বীর সৈনিক।চব্বিশের স্বৈরাচার হাসিনা বিরোধী আন্দোলনেও কিশোরগঞ্জের রাজপথে তীব্র গণ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তিনি।কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করে জেলা ছাত্রদলের সদস্য পদে গুরু দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি।শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শত নিপীড়ন নির্যাতনেও ছেড়ে যান নি রাজপথ।স্বৈরাচার হাসিনার খুনি বাহিনীর হাতে বার বার নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন তিনি।দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে রাজপথে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।এছাড়াও বীরমুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক করগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল হক আফরোজ এবং ইটালী প্রবাসী মেজবাহ উদ্দিন ধন মিয়াও নির্বাচনী মাঠে অবতীর্ণ হতে পারেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।এছাড়াও উপজেলা বিএনপির সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলাম ইদুর নামও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয় সাধারণ নেতাকর্মী ও জনসাধারণে সাথে কথা বলে জানা যায়,বিজয়ের জোর সম্ভাবনায় থাকা সম্ভাব্য প্রভাবশালী প্রার্থী হিসেবে শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ সহ অন্যান্য প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো নির্বাচনী মাঠে নামার ঘোষণা দেননি।

তবে তারা মাঠ গুছাচ্ছেন বলে জানা গেছে। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।”

করগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এবার কোনো ধরনের প্রভাব, ভয়ভীতি বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই কেন্দ্রে গিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে চান। তাদের প্রত্যাশা, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করার সুযোগ পাবেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রভাবশালী নেতা সাবেক চেয়ারম্যান শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ,ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান কবির,সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল হক আফরোজ, মেজবাহ উদ্দিন ধন মিয়া এবং বর্তমান চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ নাদিম মোল্লার অংশগ্রহণে আগামী করগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা, দলীয় সমর্থন, নির্বাচনী পরিবেশ এবং জাতীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিই নির্বাচনের চূড়ান্ত সমীকরণ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছে স্থানীয়রা।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

ম্যারেজ মিডিয়া পেশার মাধ্যমে জীবীকা নির্বাহ করছেন  ইমরান ওরফে মোনা চৌধুরী

ম্যারেজ মিডিয়া পেশার মাধ্যমে জীবীকা নির্বাহ করছেন ইমরান ওরফে মোনা চৌধুরী

 কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:কুড়িগ্রামের ইমরান ওরফে মোনা চৌধুরীর পেশা ঘটকালি। দীর্ঘ দেড় যুগ ধ...

২০ June ২০২৬ · Saturday · ০৮:১৯ অপরাহ্ণ