নিকলী নতুন বাজারে ঘণ্টায় বিক্রি হয় ৪০ মণ দুধ
আশরাফুল ইসলাম তুষার,কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় সকাল ৯ টার পর থেকে একের পর এক জড়ো হচ্ছে মানুষ। কারও মাথায় অ্যালুমিনিয়ামের কলস, কারও হাতে প্লাস্টিকের জগ কিংবা বালতি। সব পাত্রই ভর্তি গরুর দুধে।স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজারটি বসে মাত্র ১ ঘণ্টার জন্য। কিন্তু এই স্বল্প সময়েই বিক্রি হয়ে যায় প্রায় ৪০-৫০ মণ দুধ।শীত মৌসুমে এর পরিমাণ কখনো কখনো পৌঁছে যায় ৫০-৬০ মণেও।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে প্রতিদিনের মতো মিরহাটি গ্রামের জুয়েল মিয়া মাথায় দুধের কলস নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আরও অনেক খামারি। দেখতে যেন এক ধরনের মিছিল। তবে এই মিছিল কোনো দাবি আদায়ের নয়; জীবিকা আর বাজারের সন্ধানে যাওয়া মানুষের মিছিল।
নিকলীর নতুন বাজারকে স্থানীয়রা শুধু একটি বাজার হিসেবে নয়, বরং একটি বিশেষায়িত দুধের হাট হিসেবেই চেনেন।নিকলী উপজেলার আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের কৃষক ও খামারিরা প্রতিদিন সকালে এখানে আসেন দুধ বিক্রি করতে। তাদের অনেকেই নদী পেরিয়ে চরাঞ্চল থেকেও আসেন।
দুধ বিক্রি করতে আসা জুয়েল মিয়ার ভাষায়, এই বাজারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর গতি। মাত্র আধা ঘণ্টা থেকে ১ ঘন্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় সব দুধ। আশপাশের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ নিয়মিত আসেন এখানে।তবে এই প্রাণবন্ত বাজারের একটি অস্বস্তিকর দিকও রয়েছে। খামারিদের অভিযোগ, প্রতিদিন সকালে পাইকাররাই মূলত নির্ধারণ করেন দুধের দাম। ফলে অনেক সময় উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জন্য এ ধরনের বাজারের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উৎপাদক ও পাইকারের সরাসরি সংযোগ থাকায় দ্রুত বিক্রি হয়ে যায় দুধ। তবে দাম নির্ধারণে খামারিদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে আরও লাভবান হবেন তারা।
নিকলী উপজেলা উপসহকারি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) ডা:মোঃ মাহবুবুল হক জানান,'খামারিরা যাতে দুধের আরও ভালো দাম পান, সে লক্ষ্যে একটি প্রকল্পের আওতায় সেখানে ভিলেজ মিল্ক কালেকশন সেন্টার এক সময় ছিলো এখন আর নেই।তবে এই প্রকল্পটি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ করে জেলা শহর কিশোরগঞ্জ,রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে'।
ছবি ক্যাপশন
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার নতুন বাজারে দুধ বেচাকেনা চলছে