উত্তর জয়পাশার সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে, টেন্ডার হলে শুরু হয়নি কাজ
মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম
কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার উত্তর জয়পাশা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি কাঁচা সড়কের উন্নয়নকাজের টেন্ডার সম্পন্ন হলেও এখনো শুরু হয়নি মূল কাজ। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লিসহ সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর জয়পাশার এ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি হলেই কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তার বড় অংশ। ফলে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার পরও মূল কাজ শুরু না হওয়ায় জনমনে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা দুই মাসের মধ্যে কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে বর্ষা মৌসুমে আরও সময়ক্ষেপণ হলে জনদুর্ভোগ অসহনীয় হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা তাদের। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির উন্নয়নকাজ শুরু ও সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর উদ্যোগে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করতে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর জহিরুল ইসলাম খাঁন খসরু বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শওকতুল ইসলাম শকু মহোদয়ের সঙ্গে আমার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা তাঁকে জানানো মাত্রই তিনি বিশেষ তহবিল থেকে সাময়িক সংস্কারের জন্য কিছু অর্থ প্রদান করেছেন। সেই অর্থ দিয়েই আপাতত সড়কটি চলাচলের কিছুটা উপযোগী করার কাজ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ দায়িত্বশীল সবার প্রতি আমার অনুরোধ, দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল কাজ শুরু করে সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হোক। কারণ এই সড়কটি শুধু একটি রাস্তা নয়, এটি এলাকার মানুষের দৈনন্দিন চলাচল, চিকিৎসা, শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সাময়িক সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে তাদের স্পষ্ট দাবি, সাময়িক মেরামতে নয়—দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু করে দীর্ঘদিনের এ জনদুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।