টানা বর্ষণ ও পাহাড় ধসে মহেশখালীতে ১১ জন আহত; উপজেলা প্রশাসনের খাদ্য সহায়তা
নিজস্ব প্রতিবেদক,কক্সবাজার :
কক্সবাজারের মহেশখালীতে টানা বর্ষণে পাহাড় ধ্বসে নারী-পুরুষ, শিশুসহ ১১ জন আহত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। খাদ্য সহায়তা ও অনুদান নিয়ে অসহায় পরিবারের পাশে দাড়িয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (৮জুলাই) দিবাগত রাত ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহেশখালীর কালারমারছড়ায় পাহাড় ধসে ৩জন গুরুতরসহ নারী-পুরুষ মিলে ১১জন আহত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।খোঁজ নিয়ে জানাগেছে উপজেলার প্রবেশদ্বার কালারমারছড়ার আহতরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বিধ্বস্ত বাড়ীঘরসহ গুরুতর আহত চালিয়াতলীর আনছার মাঝির স্ত্রী রহিমা (৩৬), আলতাফ ও তার স্ত্রী নাছিমাসহ চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে বসতবাড়ী ভেঙ্গেছে পূর্ণমোহন বড়ুয়া, নিশান বড়ুয়া, ধনা বড়ুয়া, একরামুল হক (গুরা), মোহাম্মদ ফিরোজ নেজাম উদ্দীন মিয়া, মোহাম্মদ শফিআলমের পুত্র সেলিম। এসময় পাহাড়ি ঢলের স্রুতে নিয়ে গেল জালালের দোকান ঘরটি ও। এছাড়াও ভেঙ্গে পড়েছে বনপ্রহরীর অফিস ও। একটুর জন্য প্রাণে বাঁচলো হেলাল নাম এফজি। অন্যদিকে দ্বীপের প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ সড়কে পাহাড়ি ঢল। পৌরসভা, কুতুবজোম, ধলঘাটা ও মাতারবাড়ীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। এতে হাজার হাজার পরিবার পানি বন্দিতে ভাসমান অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। সেখানে দেখা দিয়েছে তীব্র খাদ্য সংকট।
আমাদের মহেশখালী প্রতিনিধি কায়ছার হামিদ জানিয়েছেন , ঠিক তখনি উপজেলা প্রশাসন খাদ্য সহায়তা নিয়ে ৪৫০ জন অসহায় পরিবার এবং আহত ১১ পরিবারকে ৫হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করেন। এমন তথ্যটি নিশ্চিত করেন মহেশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবু জাফর মজুমদার।
উদ্ধারকারী শওকত হোসেন জানান, রাত ১দিকে দোকান থেকে বাড়ী ফিরছিলেন,তখন তিনি গিয়ে দেখেন পাশাপাশি দু'টি টিনসেট বিল্ডিংএ ওপর মাটি চাপা পড়ে আছে। সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ২ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ রাাকিবুল হোছাইনের আওতাধীন রয়েছে। আহত স্বামী-স্ত্রীর বরাতে জানা যায়, আচমকা পাহাড় এসে ধাক্কা দেয়। এতে কোন কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই মাটির ধাক্কায় ঐ ২ ঘর ভেঙ্গে মাটির নীচে পড়ে যায়।
সচেতনমহলের ভাষ্য উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে পাহাড় রয়েছে। সেখান নির্বিচারে পাহাড় কেটে ঢালুতে তৈরী করেছে ঘরবাড়ী। কিন্তু পাহাড়ের মাটি হচ্ছে বেশী ভাগই বালি। সেই পাহাড়ের পাশে নির্মিত ঘরবাড়ীগুলি বর্ষায় ঝুঁকিতে থাকে। কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আবু আহম্মেদ জানান, একটু বৃষ্টি হলেই উপজেলা প্রশাসন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণের জন্য মাইকিং করা নির্দেশনা প্রদান করেন। তা আমি প্রধান সড়কসহ গ্রামীণ রাস্তায় সতর্কতা বার্তা পৌঁছাতে মাইকিং করে থাকি। কিন্তু তা কর্ণপাত না করায় আজ এহেন অবস্থা। এরপরও তাদের সুস্থতা কামনা করছি এবং আহত, ক্ষতিগ্রস্থদের কথা উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান- দ্বীপবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে বৃষ্টি বাদল উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসন নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।