রুয়েটে মেকানিক্যাল–সিএসই শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন; তদন্তে প্রশাসন
মো: ইসমাইল,রুয়েট প্রতিনিধি:
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এ যন্ত্রকৌশল (মেকানিক্যাল) ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং ক্যাম্পাসের একটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকদিন আগে, ৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে। সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব রেজা দাবি করেন, রাতে বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান তার রুমমেট ফয়সাল নাহার ও তার বন্ধু ফারহান তানভীর তোর্সা তার ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন। পরবর্তীতে তিনি লক্ষ্য করেন, তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা ছিল এবং ব্লুটুথ সংযুক্ত ছিল, যা দেখে তার সন্দেহ হয় যে তার ব্যক্তিগত তথ্য দেখা হয়েছে।
এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানান তিনি। এরপর তিনি বাসা ছেড়ে ক্যাম্পাসে চলে আসেন। পরে তিনি জানতে পারেন, তাকে খুঁজতে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার বাসায় গিয়েছিলেন।
এই পরিস্থিতির জেরে ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে বসেন। সেখানে মেকানিক্যাল বিভাগের প্রায় ১৫–১৭ জন এবং সিএসই বিভাগের ১০–১২ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি শুরু হলে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যাম্পাসের ফটিক জলের সামনে শুরু হওয়া সংঘর্ষ পরে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি দোকানের কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হয়।
সাকিব রেজার অভিযোগ, ক্যাম্পাসের একটি রাজনৈতিক গ্রুপের সমালোচনা এবং অন্য একটি পক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাকে লাঠিসদৃশ বস্তু দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয় এবং তাকে রক্ষা করতে গেলে তার সহপাঠীরাও হামলার শিকার হন। এতে সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী রাহী গুরুতর আহত হন এবং তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।
অন্যদিকে মেকানিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, সাকিবের অনুমতি নিয়েই ল্যাপটপ ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে ফয়সাল ও ফারহানের ওপর হামলা করেন। তারা আরও অভিযোগ করেন, সাকিব শারীরিকভাবে আক্রমণ করেন এবং হুমকি প্রদান করেন।
মেকানিক্যাল বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, সমঝোতার বৈঠকেও সাকিব উত্তেজিত আচরণ করেন, যা সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়। তার ভাষ্যমতে, এ ঘটনায় তাদের বিভাগেরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে সাকিব রেজা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার, সহকারী পরিচালক আবু ইসমাইল সিদ্দিকী এবং নিরাপত্তা শাখার প্রধান আবুল হাশেম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
নিরাপত্তা শাখার প্রধান আবুল হাশেম জানান, ঘটনার পরপরই আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কেউ একে রাজনৈতিক বিরোধের বহিঃপ্রকাশ বলছেন, আবার কেউ এটিকে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জের হিসেবে দেখছেন।