রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ভয়রা বধ্যভূমিতে ৫৬ বছর পর স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক ২৯ August ২০২৬ · Saturday · ০৩:০১ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ভয়রা বধ্যভূমিতে ৫৬ বছর পর স্মৃতিফলক নির্মাণের উদ্যোগ

বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ 

মুক্তিযুদ্ধের ৫৬ বছর পর কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ঐতিহাসিক ভয়রা বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নে অবস্থিত দীর্ঘদিনের অরক্ষিত এই বধ্যভূমিতে স্মৃতিফলক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত শহীদ সিরাজুল ইসলামের স্মৃতি ধরে রাখতে তাঁর নিজ গ্রাম ছিলনীর নাখেরাজে একটি পাঠাগার স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাখন চন্দ্র সূত্রধর সরেজমিনে ভয়রা বধ্যভূমি পরিদর্শন করেন। 

পরে তিনি শহীদ সিরাজুল ইসলাম বীর-বিক্রমের নিজ গ্রামও ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও গবেষক রওশন আলী রশো, বীর মুক্তিযোদ্ধা নবী হোসেন তজু মিয়া, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। 

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণদের বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের নৃশংসতার অন্যতম সাক্ষী ছিল ভয়রা এলাকা। নদীঘেঁষা ও নির্জন অবস্থানের কারণে মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষদের ধরে এনে এখানে নির্যাতন ও হত্যার পর মরদেহ নদী, ডোবা কিংবা মাটিতে ফেলে রাখা হতো বলে জানান তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত থাকায় বধ্যভূমিটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেকটাই আড়ালে পড়ে আছে। সেখানে দৃশ্যমান কোনো স্মৃতিচিহ্ন না থাকায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই স্থানটির ইতিহাস সম্পর্কে জানে না। 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্মৃতিফলকের পাশাপাশি বধ্যভূমিতে শহীদ ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা সংরক্ষণ করা হবে। অন্যদিকে, শহীদ সিরাজুল ইসলাম বীরবিক্রমের নামে পাঠাগার স্থাপনের উদ্যোগও স্থানীয়দের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। ১৯৭১ সালের ৮ আগস্ট সুনামগঞ্জের সাচনা বাজারে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে শহীদ হন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে 'বীর বিক্রম' খেতাবে ভূষিত করা হয়। প্রতিবছর ৮ আগস্ট তাঁর শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়। ইটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, প্রাথমিকভাবে অরক্ষিত বধ্যভূমিটিতে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ এবং শহীদ সিরাজুল ইসলাম বীরবিক্রমের নামে তাঁর নিজ গ্রামে একটি পাঠাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। 

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল বলছেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ভয়রা বধ্যভূমি শুধু একটি স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে নয়, বরং হাওরাঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

ছোট ভাই আলমগীরই হত্যা করায় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরকে,সংবাদ সম্মেলনে দাবি নিহতের স্ত্রীর

ছোট ভাই আলমগীরই হত্যা করায় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরকে,সংবাদ সম্মেলনে দাবি নিহতের স্ত্রীর

বিজয় কর রতন,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আল...

২৪ October ২০২৬ · Saturday · ০৯:০০ অপরাহ্ণ
মিঠামইনে বিএনপির সভাপতি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

মিঠামইনে বিএনপির সভাপতি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বিএনপির সভাপতি এডভোকেট জাহি...

২৪ October ২০২৬ · Saturday · ০৮:০৫ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন টাইগার একাদশ

পাকুন্দিয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশে মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন টাইগার একাদশ

এম এ হান্নান পাকুন্দিয়া কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধিঃকিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা  দর্শকদের ম...

২৪ October ২০২৬ · Saturday · ০৭:৩২ অপরাহ্ণ