কিশোরগঞ্জের নতুন এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
জামাল উদ্দিন , স্টাফ রিপোর্টার
কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তিনি বর্তমান এসপি ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির তথ্য জানানো হয়। একই প্রজ্ঞাপনে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার মোট চারজন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
মিজানুর রহমান বিসিএস (পুলিশ) ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। ডিএমপির গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি সুনাম অর্জন করেছেন। কিশোরগঞ্জ জেলায় এই প্রথমবারের মতো এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছেন তিনি।
তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলায়। তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার অন্তর্গত গঙ্গামণ্ডল রাজ ইনস্টিটিউশন থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে এসএসসি পাস করেন। এরপর দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায়ও প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণি লাভ করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সারদা পুলিশ একাডেমিতে এক বছর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বিপিএটিসিতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। চাঁদপুর জেলায় শিক্ষানবিশকাল শেষ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি র্যাব, এপিবিএন এবং পিবিআইয়ে দীর্ঘ সময় দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন।
ডিএমপি ট্রাফিক (গুলশান) বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ট্রাফিক জ্যাম নিরসন, সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের এবং আইন প্রয়োগে দক্ষতার পরিচয় দেন। গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার বিভিন্ন সোসাইটির সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ট্রাফিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। জনসেবামূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একাধিকবার ‘শ্রেষ্ঠ ডিসি’ পুরস্কার অর্জন করেন।
মিজানুর রহমান জাতিসংঘ শান্তি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এ জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন। সুদানের দারফুরের শাঙ্গিল তোবায়া এলাকায় তিনি অপারেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
'রহমান শেলী’ ছদ্মনামে তিনি লেখালেখি করেন। ১৯৯২ সালে কবিতা দিয়ে তার সাহিত্যজীবন শুরু হলেও প্রথম প্রকাশিত বই ছিল উপন্যাস— অবন্তীর নীল শাড়ি (২০০২)। এরপর তিনি কবিতা, রোমান্টিক উপন্যাস, ক্রাইম ফিকশন, ডিটেকটিভ, সায়েন্স ফিকশন, ভূতের গল্প, শিশুতোষ সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন।
এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৩১টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— তৃণা এবং একজন সিরিয়াল কিলার, জুনিয়র হিটম্যান সিরিজ, হোয়াইট কলার ক্রিমিনাল, আমি এলিয়েন, ভূতের নাম তুলতুল, মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ইতিহাস, রক্তাক্ত সুদানে শান্তির সন্ধানে প্রভৃতি।
সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৯৯ সালে বন্ধুসভা প্রথম আলোর শ্রেষ্ঠ লেখক পুরস্কার, ২০০৭ সালে পুলিশ সংগীত রচনার জন্য পুলিশ একাডেমি থেকে পুরস্কার, এছাড়া কাব্য মালঞ্চ সাহিত্য পুরস্কার ও কৃষ্টি-কালচার সাহিত্য পুরস্কারসহ আরও বেশ কয়েকটি সম্মাননা লাভ করেন।