টিসিবির পণ্য বিতরণে বিশৃঙ্খলা: পুলিশকে মারধর ও বদলির হুমকিতে বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার
আব্দুল আলীম,জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যদের মারধর এবং এক উপপরিদর্শককে (এসআই) চার ঘণ্টার মধ্যে বদলির হুমকির অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টিসিবির পণ্য বিতরণকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের সময় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আক্কেলপুর শহরের হাস্তাবসন্তপুর মহল্লার সাকিবুর রহমান সুমন ওরফে ট্যারা সুমন (৪০) এবং তার ছেলে সায়মন সাফিত ওরফে সুজন (১৭)। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বাবাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং ছেলেকে জামিন দেন।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে ভুক্তভোগী এসআই আব্দুল্লাহ আল-মাসুম বাদী হয়ে আক্কেলপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুজনসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল বিকেলে আক্কেলপুর পৌর এলাকার একটি টিসিবি পণ্য বিক্রয়কেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। পণ্য বিতরণের সময় কয়েকজন ব্যক্তি লাইনে না দাঁড়িয়ে জোরপূর্বক পণ্য নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা পুলিশ সদস্যদের ধাক্কাধাক্কি ও মারধর শুরু করেন। এমনকি তারা পুলিশের পিকআপের গতিরোধ করে সেটি কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত চলাকালে প্রধান অভিযুক্ত সাকিবুর রহমান সুমন কর্তব্যরত এসআই আব্দুল্লাহ আল-মাসুমকে চাকরি খাওয়ার ভয় দেখান। একই সঙ্গে তাকে চার ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবানে বদলি করার হুমকি দেন। পরে খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ওই বাবা ও ছেলেকে আটক করে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিরা এ সময় পালিয়ে যায়।
জয়পুরহাটের আদালত পরিদর্শক আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্ত ছেলে সায়মন সাফিতকে জামিন দেন এবং বাবা সাকিবুর রহমান সুমনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সার্বিক বিষয়ে আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশের ওপর হামলা ও হুমকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার পলাতক অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।