ভোলা–বরিশাল–খুলনা গ্যাস পাইপলাইন ফের অগ্রাধিকার, রুট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত
মো: আল-মাহফুজ শাওন
উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে নতুন পরিকল্পনা; ১৫০ কিমি পাইপলাইনে ব্যয় ধরা হচ্ছে ৭–৮ হাজার কোটি টাকা
আবারও আলোচনায় এসেছে ভোলা–বরিশাল–খুলনা গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প। শুরুর আগেই রুট পরিবর্তন করে প্রকল্পটিকে নতুন করে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস সম্পদ ঘিরে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কয়েক বছর ধরে ভোলা–বরিশাল–খুলনা পাইপলাইন নিয়ে আলোচনা চললেও এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভোলা–বরিশাল অংশ অপরিবর্তিত রেখে বরিশাল–ঢাকা পাইপলাইন করার পরিকল্পনা নেয়। তবে সর্বশেষ বৈঠকে প্রথম ধাপে ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত থাকলে বরিশাল–ঢাকা পাইপলাইন বাস্তবায়ন করা হবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মোঃ এরফানুল হক জানান, গত সপ্তাহে ভোলা গ্যাস ফিল্ড নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিল্পায়ন ও পাইপলাইনসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, “ভোলা–বরিশাল–খুলনা পাইপলাইন বাস্তবায়নেই এখন জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে এলএনজি আকারে গ্যাস সরবরাহের বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যেখানে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা হতে পারে।”
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে খুলনা পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। এতে ব্যয় ধরা হচ্ছে আনুমানিক ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা। তবে গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত না হলে এই ব্যয় আদায় নিয়ে সংশয় রয়েছে। অতীতে ২০০৪ সালে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক গ্যারান্টি চাওয়ায় একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে ভোলায় উল্লেখযোগ্য গ্যাস মজুতের সম্ভাবনা দেখা গেছে। ইতোমধ্যে তিনটি গ্যাস ফিল্ডে প্রায় ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত থাকার আশা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব।
তবে স্থানীয় চাহিদা কম ও পাইপলাইন না থাকায় বর্তমানে মাত্র ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডে সরাসরি সরবরাহ সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প হিসেবে সিএনজি ও এলএনজি আকারে গ্যাস পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মজুত কমে আসার প্রেক্ষাপটে ভোলা–বরিশাল–খুলনা পাইপলাইন বাস্তবায়ন সময়োপযোগী ও যৌক্তিক উদ্যোগ হতে পারে।