রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ

কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে

Admin ২৮ April ২০২৬ · Tuesday · ০৩:১০ অপরাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে
কুষ্টিয়ায় অস্ত্রোপচারের সময় শিশুর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পুলিশ হেফাজতে

নজরুল ইসলাম মুকুল, কুষ্টিয়াঃ

কুষ্টিয়া সদর উপ‌জেলার এক‌টি বেসরকারি হাসপাতা‌লে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের পর তাসনিয়া আফরিন (৬) না‌মে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।  সোমবার রাত আটটার দিকে কুষ্টিয়া- রাজবাড়ী সড়কের মোল্লাতেঘরিয়া এলাকায় অবস্থিত একতা প্রাইভেট হাসপাতালে এই মৃতু্্যর  ঘটনা ঘটে। তাসনিয়া আফরিন কুমারখালী উপজেলার সানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের মেয়ে। এ ঘটনায় অস্ত্রোপচারের সময় উপ‌স্থিত দু্ই চি‌কিৎসক‌কে হেফাজ‌তে‌ নি‌য়ে‌ছে পু‌লিশ। ত‌বে নিহ‌তের প‌রিবা‌রের পক্ষ থে‌কে এখন পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ করেননি। 
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গে‌ছে, চার-পাঁচ দিন আগে বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে তাসনিয়ার বাঁ হাত ভেঙে যায়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায়  সোমবার  (২৭ এপ্রিল) বিকে‌লে প‌রিবা‌রের সদস‌্যরা তাকে কুষ্টিয়া শহরের একতা প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখা‌নে হাতের অস্ত্রোপচারের জন‌্য সন্ধ্যা সাতটার দিকে তাসনিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাদী এবং অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের জন্য তাহেরুল আল আমীন উপস্থিত ছিলেন।
অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়। এ খবর অপারেশন থিয়েটারের বাইরে থাকা স্বজনদের কাছে পৌঁছালে তাঁরা ক্ষুব্ধ হ‌য়ে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। এ সময় স্থানীয় লোকজনও ভাঙচু‌রে অংশ নেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ১১টা পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করেন। প‌রে অবরুদ্ধ দুই চিকিৎসককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। শিশুটির খালু আতিয়ার রহমান বলেন,অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ভুল বা চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই
তাসনিয়ার মৃত্যু হয়েছে। এর কঠিন বিচার চান তি‌নি।
ঘটনার রা‌তে অবেদনবিদ (অ্যানেসথেটিস্ট) তাহেরুল আল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ``তাসনিয়ার শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষায় সব ঠিক ছিল। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর সে মৃত্যুবরণ করে। হয়তো হার্ট অ্যাটাকের কারণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে।'
একতা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুল ইসলাম বলেন,`শিশুটিকে অজ্ঞান (অচেতন ) করার পরপরই তার মৃত্যু হয়। অ্যানেসথেটিস্ট বেশ কয়েক বছর ধরে এখানে এসে কাজ করেন। অ্যানেসথেসিয়া কীভাবে প্রয়োগ হয়েছে বা কতটুকু প্রয়োগ হয়েছে, সেটা চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন।' ‌
অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসাক  (আরএমও) হোসেন ইমাম  বলেন,`এটা‌কে আমরা হাইপার সেন‌সিটিভ কেস ব‌লে থা‌কি। যেটা সা‌ডেন কা‌র্ডিয়াক অ‌্যারেস্ট। আবার অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের কারণেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। নিহ‌তের প‌রিবা‌র সম্ভবত ময়নাতদন্ত কর‌তে চা‌চ্ছেন না। ত‌বে ময়নাতদন্ত রি‌র্পোট পে‌লে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যা‌বে।'
জান‌তে চাইলে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন এস এম কামাল হোসেন  বলেন, `তদন্ত ক‌মি‌টি গঠনের প্রক্রিয়া চল‌ছে। কোন গাফিল‌তির প্রমাণ মিল‌লে স‌ঙ্গে স‌ঙ্গে ব‌্যবস্থা নেওয়া হ‌বে। এমন অভিযোগে এর আগেও তিন‌টি‌ ক্লি‌নিক বন্ধ ক‌রে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা সা‌ড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর বলেন, এখন পর্যন্ত প‌রিবারের পক্ষ থে‌কে কোন মামলা দেওয়া হয়‌নি। রা‌তেই দুই চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লাশ হাসপাতাল ম‌র্গে র‌য়ে‌ছে। লা‌শের কা‌ছে প‌রিবা‌রের সদস‌্যরা না থাকায় এখনও সুরতহাল রি‌র্পোট করা সম্ভব হয়‌নি।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন