রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
সারাদেশ

পাকুন্দিয়ায় “মানবতার ফেরিওয়ালা” স্বপন কুমার দত্তকে বিদায়ী সংবর্ধনা

Admin ২৯ April ২০২৬ · Wednesday · ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় “মানবতার ফেরিওয়ালা” স্বপন কুমার দত্তকে বিদায়ী সংবর্ধনা
পাকুন্দিয়ায় “মানবতার ফেরিওয়ালা” স্বপন কুমার দত্তকে বিদায়ী সংবর্ধনা

আবু হানিফ  স্টাফ রিপোর্টের :-কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় “মানবতার ফেরিওয়ালা” নামে পরিচিত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দত্তের বদলিজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাসের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তিনি কটিয়াদি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে বদলি হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাত জাহানসহ উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বপন কুমার দত্ত ২০১৮ সালের ১১ নভেম্বর দায়িত্ব গ্রহণ করে টানা ৮ বছর ৪ মাস অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। কর্মজীবনে তিনি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তাঁর সাহস, একাগ্রতা ও মানবিক গুণাবলীর সমন্বয়ে তিনি দ্রুত মানুষের সমস্যা সমাধানে কাজ করে গেছেন এবং উপজেলার মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
বিশেষ করে অসহায়, গরিব ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি “মানবতার ফেরিওয়ালা” হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। হতদরিদ্র মানুষের উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
তাঁর মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখযোগ্য—এইচএসসি পরীক্ষার সময় অসুস্থ হয়ে পড়া এক পরীক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং আলাদা কক্ষে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এছাড়া নবজাতক সন্তানসহ এক পরীক্ষার্থীর জন্য ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করাও তাঁর মানবিক উদ্যোগের অনন্য উদাহরণ।
এছাড়া বজ্রপাতে স্বামী হারানো অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর পাশে দাঁড়িয়ে তাকে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আনা এবং পরবর্তীতে খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করে দেওয়াও তাঁর দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক।
করোনা মহামারির সময়ও তিনি দিন-রাত পরিশ্রম করে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি নারীর ক্ষমতায়ন, আইনগত সহায়তা প্রদান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরি, খোরপোষ ও দেনমোহর আদায়সহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
ব্যক্তিজীবনে সৎ, নিরহংকারী ও সময়নিষ্ঠ এই কর্মকর্তা দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সমানভাবে প্রিয় হয়ে উঠেছেন। তাঁর এই মানবিকতা ও কর্মনিষ্ঠা পাকুন্দিয়ার মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন