ফসলের মাঠেই হারিয়ে গেলো কৃষকের স্বপ্ন
মোঃ শফিকুল ইসলাম, ইটনা, কিশোরগঞ্জ:
টানা প্রায় ১ সপ্তাহের বৃষ্টি উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং হাওরের বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা না থাকায় কিশোরগঞ্জ হাওরাঞ্চলে এক ফসলের উপর নির্ভরশীল কৃষকের স্বপ্ন ভাসিয়ে নিলো নিষ্ঠুর প্রকৃতি।
কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৯ এপ্রিল (বুধবার) পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে প্রায় ৩,০০০ হেক্টরেরও বেশি বোরো ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এর সিংহভাগই হাওরাঞ্চলে অবস্থিত। কৃষকের নিরব আহাজারি এখন সর্বত্র। হাওরবাসির বোনা স্বপ্নের মৃত্যু যেন তাদের মাথায় আকষ্মিক বজ্রাঘাতের মতো।
এ সুযোগে ধান কাটা শ্রমিকেরা দ্বিগুণ মজুরিতেও কাটতে চাচ্ছেনা কৃষকের ধান। অনেকেই এটাকে চরম মানবিক বিপর্যয় বলে মনে করছে। একটিমাত্র ফসলের উপর নির্ভরশীল হাওরের মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই বোরো ফসলকে ঘিরে কতো স্বপ্ন থাকে হাওরবাসির। অধিকাংশ কৃষক অন্যের জমি পত্তন নিয়ে ধার-দেনা করে প্রায় প্রায় ৭ মাস রোদবৃষ্টি তীব্র শীত উপেক্ষা করে হাড়ভাঙা খাটুনি সেচ সার কীটনাশক অন্যান্য পরিচর্যায় সাজিয়ে তোলে ফসলের মাঠ। এ ফসল যখন সোনালী রূপ ধারণ করে হাজারো পরিকল্পনা সাজিয়ে তোলে নিজের বোনা ফসলের দিকে তাকিয়ে।
কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা স্বপ্ন থাকে তাঁর বিবাহযোগ্যা কন্যাকে পাত্রস্থ করা, বেকার ছেলের ব্যবসা, মাথা গুজার ঘরটি মেরামত, নৌকা মেরামত, চিকিৎসাসহ সবকিছুর পরিকল্পনা সাজায় এই ফসলকে ঘিরে।
এই মানবিক বিপর্যয়ে হাওরের কৃষকের পাশে সার্বিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে কিশোরগঞ্জ -৪ সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান।
ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসির প্রত্যাশা এ মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের পাশে দাঁড়াবে বলে মনে করে।