প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিপর্যস্ত লবণ শিল্প:লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে গভীর শংকা
এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার //
উপকূলের দিগন্তজুড়ে এখন আর সাদা দানাদার জলমলে লবণের সারি নেই। আছে শুধু কাঁদামাখা পানি।ভাঁঙাবাধ,ছিন্ন পলিথিন আর নিঃশব্দ হতাশা।
মেঘাচ্ছ আকাশ মাথার উপর, তার পর ও আশা ছাড়তে নেই লবণ চাষীদের। মাঠে উপস্থিত হয়ে কষছেন কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব। এ যেন সাদা স্বপ্ন ভেঙে পড়ার দৃশ্য।শ্রম সময়, পূঁজি, স্বপ্ন এক সাথে নিমিষেই শেষ। উপকূলের মানুষের কাছে লবণ শুধু উৎপাদন নয়, জীবনের অংশ।তাই মাঠের এই নিস্তব্ধতা শুধু একটি মৌসুমের ক্ষতি নয় জীবনের অংশ।
লবণ উৎপাদন ও লবণ শিল্প সম্প্রসারণে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি লবণ চাষীরা চরম ক্লান্তিকাল অতিক্রম করছেন।
একদিকে দরপতন, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন মারাত্মক অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে কৌশলগত এ পণ্যের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে চাষীদের। তাই ক্ষতিগ্রস্ত লবণচাষীদের পূর্নবাসন ও প্রনোদনা দিয়ে টিকিয়ে রাখার দাবী জোরালো হচ্ছে কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষ অধ্যুষিত এলাকায়।
বৈরী আবহাওয়ায় মাঠজুড়ে ধ্বংসস্তুপ;
ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলে লবণ মাঠের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে লবণ মাঠ। সেই সাথে কূলে থাকা ব্যাপক লবণ গলে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে বৃষ্টির জলে মাঠ ডুবে যাওয়ায় লবণচাষ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিসিক’র তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামের বাঁশখালীসহ কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় কুতুবদিয়া, মহেশখালী,ঈদগাঁও, উখিয়া টেকনাফ, পেকুয়া, চকরিয়া ও সদরের বিস্তীর্ণ প্রায় ৬৮ হাজার ৫০০ একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত রোববার থেকে বৈরি আবহাওয়া শুরু হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার ও বুধবার ও বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। আজ শুক্রবার ও আকাশে সূর্যের দেখা মিলেনি। ঘুমোট আবহাওয়া বিদ্যমান রয়েছে। যে কোন সময় বৃষ্টি হতে পারে। এসময় মাঠে থাকা বিপুল লবণ ভেসে যায়। আর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে পলিথিনসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি।
দুই দফা দূর্যোগে ভেঙে পড়েছে উৎপাদন :
অন্যদিকে বৃষ্টি থামলেও পানিতে ডুবে রয়েছে লবণ মাঠ। ফলে লবণ উৎপাদন হবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। এতে লবণ চাষের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৪২ হাজার চাষি কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর আগেও বৈশাখের শুরুর দিকে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টিতে সব এলাকায় লবণ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। দুই দফায় বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হলেন চাষিরা। একদিকে ন্যায্যমূল্য নেই, অন্যদিকে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে টানা গত কয়েক বছরের মতো এবারও লোকসান নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে চাষিদের।
টেকনাফের চাষি রহিম উল্লাহ জানান, ৭ ও ৮ এপ্রিলের পর আবার প্রবল বৃষ্টিতে লন্ডভন্ড হয়ে লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় উৎপাদিত লবণও বিক্রি করা যায়নি। মাঠে থাকা লবণ ছাড়াও জমানো লবণও বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে। এরপর পলিথিন গুছিয়ে মাঠ তৈরি করতে গেলে হয়তো যে কোনো সময় আবারো বৃষ্টি নেমে মাঠ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরেক চাষি এনামুল হক বলেন, বহু বছর ধরেই লবণের ন্যায্যমূল্য নেই। প্রতিবছর লোকসান দিয়ে যাচ্ছি। তারপরও পেটের দায়ে চাষ করতে হচ্ছে। চলতি বছরও একই দশা দিয়ে উৎপাদন করে এসেছি। এবার এক মণ লবণ উৎপাদন করতে খরচ হচ্ছে ২৯০ টাকা। কিন্তু বিক্রি করতে হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। ক্রমাগত লোকসানের মূখে লবণ চাষীরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন।
মহেশখালীর চাষি জাফর আলম বলেন, গত অক্টোবর থেকে থেকে লবণ উৎপাদন শুরু করি। এপ্রিল পর্যন্ত একর প্রতি লবণ উৎপাদন হয়েছে সর্বোচ্চ ৪৫০ মণ লবণ। এখন পর্যন্ত লোকসান দিয়ে লবণ বিক্রি করেছি। কিন্তু এখনো রয়েছে গেছে দাদনের টাকা। এখন যে পরিমাণ লবণ মজুদ রয়েছে এবং সামনে যা উৎপাদন হবে তাতে দাদনের টাকা উঠবে না। এরপর সংসার কিভাবে চলবে জানিনা।
কুতুবদিয়ার চাষি শরিফুল আলম বলেন, হঠাৎ বৃষ্টি এসে আমাদের স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। হাতে আছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন। এর মধ্যে আবারো কালবৈশাখী–বৃষ্টি হতে পারে। একবার বৃষ্টি হলে ৭ থেকে ৮ দিন লবণ উৎপাদন বন্ধ থাকে। এতে বাকি সময়টা পুরোপুরি অনিশ্চিত। তাই অনেকে আর চাষে নামতে চাচ্ছে না।
লবণ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি মোস্তফা কামাল চৌধুরী জানান, নভেম্বর–ডিসেম্বর মাসে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ থাকার কারণে উপজেলার লবণচাষিদের মাঠে নামতে ২০ থেকে ২৫ দিন দেরি হয়েছে। এখন আবার বৈরী পরিবেশের কারণে ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই মাঠ ছাড়তে হচ্ছে। এ কারণে লবণ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। অধিকাংশ চাষি ঋণ ও দাদনের টাকায় লবণ চাষে নামেন। লবণ উৎপাদন কম হওয়ায় ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ডিসেম্বর–জানুয়ারি মাসে লবণ বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকায়। মার্চের মাঝামাঝিতে এসে লবণের দাম কিছুটা বেড়ে ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি অনুসারে দাম অন্তত প্রতি মণ ৪০০ টাকা হওয়া উচিত।
এদিকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) দেওয়া তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, ঈদগাঁও, টেকনাফ ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণের চাষ হয়েছে। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লবণ উৎপাদিত হয়েছে ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন, যা গত মৌসুমের (একই সময়ে) তুলনায় ৫ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন কম। গত মৌসুমে একই সময়ে লবণ উৎপাদিত হয়েছিল ২১লাখ ২২ হাজার ১৬২ মেট্রিক টন। চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। দেশে লবণের চাহিদা ২৭ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত :
লক্ষ্যমাত্রার কম লবণ উৎপাদনের কারণ জানতে চাইলে বিসিকের কক্সবাজার লবণ উন্নয়ন প্রকল্পের মাঠ পরিদর্শক মো. ইদ্রিস আলী বলেন, দুই দফার ভারী বৃষ্টিতে শতভাগ লবণমাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পর থেকে লবণ উৎপাদন বন্ধ আছে। বৃষ্টির পানিতে শত শত চাষির লবণ গলে নষ্ট গেছে। লবণ উৎপাদনে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে মাঠ ও মিল (কারখানা) পর্যায়ে নতুন–পুরোনো মিলে ১০ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে মাত্র।
প্রযুক্তির পরিবর্তন ও প্রান্তিক চাষীর সংকট:
বিশেষজ্ঞদের অভিমত লবণ উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে।কারণ শত শত বছর ধরে উপকূলীয় অঞ্চলের লবণ চাষীরা চুল্লী পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন করতেন। সমুদ্রের লোনাজল আহরণ করে বড় পাত্রে ভর্তি করে লাকড়িজ্বলা চুল্লির আগুনের তাপে লবণ বের করে আনা হত।যা ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল।১৯৬২ সালে প্রথম সূর্যতাপে লবনাক্ত এটিল মাটিতে কাঠের তৈরি রোলার চাপিয়ে প্রচীন পদ্ধতিতে লোনাজল আটকিয়ে লবণ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।এতে অবশ্যই কাঁদা মিশানো থাকতো।যা লবণ ক্রাসিং মিলে কাঁদা বের করে ধবধবে সাদা লবণ বের করা হতো।এভাবে ৯০ দশক পর্যন্ত চলে।দীর্ঘ গবেষণার পর ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) কক্সবাজার অঞ্চলের তৎকালীন উপ মহা ব্যবস্থাপক ড, সালেহ উদ্দিন আহমেদ সর্বাধুনিক পলিথিন প্রযুক্তি নির্ভর কুতুবদিয়া লেমশী খালীর লবণ কেন্দ্রের মাত্র ২ একর জমিতে ধবধবে দানাদার সাদা লবণ উৎপাদন করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেন।এর পর থেকে লবণ চাষীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পলিথিন প্রযুক্তিনির্ভর সাদা লবণ উৎপাদনের যাত্রা শুরু করেন।পরবর্তীতে তিনি ভারতের চেন্নাইয়ের লবণ চাষীদের ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসেন।
এ প্রযুক্তি অবশ্যই ব্যায় বহুল। এ কারণে হতদরিদ্র প্রান্তিক বর্গা অনেক লবণ চাষী লবণ চাষ থেকে ছিটকে পড়েন।এ পদ্ধতির লবণ চাষ মধ্য বিক্ত ও সচ্ছল লবণচাষীদের দখলে চলে যায়।কারণ পলিথিন ক্রয়,সেচপাম্প,ডিজেলসহ যাবতীয় উপকরণ ক্রয় করে লবণ মাঠে ঠিকে থাকা প্রান্তিক লবণচাষীর পক্ষে সম্ভব ছিল না।ফলে অনেক লবণ চাষী দিন মজুর ও শ্রমিকে পরিনত হয়।
কারণ আগে তাদের শুধু কায়িকশ্রম,কাঠের রোলার, কাঠের তৈরি ঢেঁকিকল জোগাড় করে লবণ উৎপাদনে মাঠে নেমে যেতে পারতেন।
লবণচাষী নেতা কুতুবদিয়ার গোলাম মোস্তফা সেলিম বলেন,দিন দিন লবণ চাষের জমি সংকোচিত হচ্ছে। বাড়ছে প্রতিযোগিতা। কারণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৭২ হাজার একর জমি হচ্ছে লবণ উৎপাদনের উপযোগী। কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর, এলএনজি টার্মিনাল, ইকোনমিক জোন, সড়ক, রেল লাইনসহ বিভিন্ন শিল্পায়নের নামে অধিগ্রহণ করা হয়েছে ৮৫ শতাংশ লবণ চাষ যোগ্য জমি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবী আগামী ৫ বছরে কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে মহেশখালীর মাতারবাড়ি, ধলঘাটা, কালারমারছড়া, হোয়ানক, কুতুবজোম,শাপলাপুরের ২৫ হাজার লোক উদ্বাস্তু হয়েছে। এসব উদ্বাস্তু লোকজন কেউ শহরে বাড়া বাসায় কেউবা পাহাড়ের বনভূমিতে অবৈধভাবে বসবাস করছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী,কক্সবাজারের পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজার সদর উখিয়া ও টেকনাফে অনুরূপ চিত্র দেখা দিয়েছে। সকল প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে লবণ চাষের জমি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার একরে চলে আসবে।ফলে দেশের চাহিদা অনুযায়ী লবণ উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোন অবস্থায় সম্ভব হবে না বলে মনে করে পরিবেশবাদীরা।কারণ যে সব উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে তাতে স্থানীয়দের মতামত গ্রহন করেনি কোন সরকার। চট্টগ্রাম বিভাগীয় লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির বলেন,লবণ উৎপাদনের জমি হারিয়ে গেলে দেশের সাড়ে ৪ শ' র বেশী লবণ মিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রায় ২ কোটি মানুষ লবণ উৎপাদন বিপনন,শ্রমিক,জমির মালিক,দিন মজুর, কলকারখানার দক্ষ টেকনিশিয়ান, মধ্যসত্ত্বভোগী ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত লোকজন বেকার হয়ে পড়বে।শুধু তাই নয় একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্পখাত বিপর্যস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এতে অবশ্য কিছু বিশেষজ্ঞ ও শিল্প উদ্যক্তাদের ভিন্ন মত রয়েছে। তাদের দাবী এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের পুরো কক্সবাজার উপকূলীয় অঞ্চল শহর বন্দরের আধুনিক সুবিধা ভোগ করবে নাগরিকেরা।
এ জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা ও হচ্ছে। যেমন শুষ্ক মৌসুমের জন্য এখন সনাতন পদ্ধতির ইটভাটার উৎপাদনের দিকে চেয়ে থাকতে হচ্ছে না। সারা বছর যাতে ইট উৎপাদন হয় সে রকম প্রযুক্তি নির্ভর ইটভাটা চালু হয়েছে।
লবণ উৎপাদন যাতে সূর্যতাপের উপর নির্ভর করতে না হয় সেজন্য ব্যাপক গবেষণা চলছে।
গবেষণা ও আধুনিকায়নে নতুন উদ্যোগ:
সমুদ্রের লোনাজলের লবণের গাঢ়ত্ব পরিমাপ করে সে পানি থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে লবণ বের করা যেতে পারে।ওই পানি থেকে শুধু লবণ নয়, পরিবেশ সম্মতভাবে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও সংগ্রহ করা সম্ভব। ফলে ভূ- গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীলতা কমবে।পরিবেশ বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হবে।
এই প্রকল্পের সম্ভব্যতা যাচাই ও গবেষণার জন্য কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডীতে ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে লবণ গবেষণা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্টা করা হচ্ছে। গত বছর ১৭ জানুয়ারি সাবেক শিল্প শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের একটি টীম কক্সবাজারের চৌফলদন্ডীতে প্রস্তাবিত লবণ গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তিনি তখন বলেছিলেন ইতিবাচক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা প্রয়োজন।লবণ চাষী ও লবণ শিল্পের স্বার্থে
উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বয়ংসম্পূর্ণ শিল্পখাত তৈরি করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
যতদূর জানাযায় সেখানে লবণ উৎপাদন ও গুনগত মান বাড়াতে পাইলট প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
বিসিক সংশ্লিষ্টরা জানান, চৌফলদন্ডীতে ৩০ একর অধিগ্রহণকৃত জমিতে লবণ গবেষণা ইন্সটিটিউট নির্মাণ করা হবে।এতে ব্যায় ধরা হয়েছে ১৫৪ কোটি টাকা।এই প্রকল্প প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তক অবমুক্ত হলে কাজে আর কোন বাঁধা থাকবে না। ক্রমবর্ধমান লবণ উৎপাদন বাড়াতে আপাতত চৌফলদন্ডীতে ভারত, চীন ও জাপানের চাষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লবণ উৎপাদনের পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে লবণ শিল্পের উন্নয়ন কার্যালয় বিসিক।
কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফখর উদ্দীন চৌধুরী বলেন, যাই হোক লবণ উৎপাদন, বিপনন ক্ষেত্রে যে আরো আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন হতে যাচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই। খুব সম্ভবত এবার মধ্যবিক্তদের হাত ছাড়া হতে পারে লবণ উৎপাদন। কারণ , দেশের পূঁজিপতি, শিল্পপতিদের হাতে চলে যেতে পারে লবণ উৎপাদন, বিপনন কার্যক্রম। এ ব্যাপারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা কী হতে পারে তা এখনো অদৃশ্য রয়ে গেছে।
পূনবার্সন প্রনোদনার দাবী;
অর্থনীতিবিদ গবেষক প্রফেসার সুকুমার দত্ত জানিয়েছেন, যাই হোক চাষীদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় এমন প্রকল্প গ্রহন করা হলে দেশের দুই কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতেপারে।লবণচাষীরা তাই ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্নবাসন উৎপাদন ভর্তুকি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করণএবং দুর্যোগ সহনশীল প্রযুক্তি সহায়তার দাবী জানিয়েছেন।
কারণ তাদের ভাষায়-
"লবণ শুধু মাঠে জন্মায় না,
উপকূলের মানুষের জীবন জীবিকাও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে।