সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
সারাদেশ

কিশোরগঞ্জে ডুবেছে ৯ হাজার হেক্টর জমি, কেটে আনা ধানেও ধরেছে পচন

Admin ০২ May ২০২৬ · Saturday · ০৩:০৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ডুবেছে ৯ হাজার হেক্টর জমি, কেটে আনা ধানেও ধরেছে পচন
কিশোরগঞ্জে ডুবেছে ৯ হাজার হেক্টর জমি, কেটে আনা ধানেও ধরেছে পচন

মোঃ শফিকুল ইসলাম, ইটনা কিশোরগঞ্জ।

অতি বৃষ্টি ও অকাল বন্যায় কিশোরগঞ্জে ডুবেছে ৯ হাজার হেক্টর বোরোধানের জমি। ভরসার শেষ ধাপটিও ভাসিয়ে নিলো নিষ্ঠুরতম প্রকৃতি। অবিরাম বৃষ্টির কারণে কেটে আনার ধানেও ধরেছে পচন।

জেলাটির হাওরের কৃষকের যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে কয়েক বছর।

ইটনা ইউনিয়নের পশ্চিম গ্রামের কৃষক আবুল কাসেম জানান, বলদার হাওরে পত্তন নিয়ে ২৩ একর জমি চাষ করতে ১০ লক্ষ টাকার উপরে। ভালোভাবে মাত্র ২ একর জমির ধান কাটতে পেরেছিলাম, শ্রমিক সংকটের কারণে তিন ভাই আর পিতা মিলে যতোটুকু কেটে আনতে পেরেছি, রোদ না থাকায় এসব ধানেও পচন ধরেছে, চারা গজাচ্ছ ধানের স্তুপের উপর। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে কমপক্ষে ৪ বছর।

কিশোরগঞ্জ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (শস্য)  মোঃ শাহিনুল ইসলাম জানান, আজ ২ মে ২০২৬ পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সমগ্র কিশোরগঞ্জ জেলায় ৯ হাজার ৪২ হেক্টর বোরোধানের জমি বন্যার পানির নিছে তলিয়ে গেছে।

এদিকে খরের অভাবে গো খাদ্যের উপর পড়বে প্রভাব। হাওরের এক ফসলি কৃষিকে কেন্দ্র করেই প্রনয়ণ হয় কৃষকের সারা বছরের পরিকল্পনা।

এ মুহুর্তে এসকল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে বাঁচাতে সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে দেউলিয়া হবে কৃষক সমাজ।

কৃষকের হাহাকার, নিরবে ফেলা চোখের জল বানের জলে একাকার হয়ে গেছে। 
হাওরে যে ধান উৎপাদন হয় তা সারাদেশে  বার্ষিক ধান উৎপাদনের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ  আসে হাওরাঞ্চল থেকে। শংকার কথা হচ্ছে সরকারের এ মৌসুমে হাওরাঞ্চল থেকে বোরোধান সংগ্রহের যে  লক্ষমাত্রা রয়েছে  তা ব্যাহত হওয়ার ঝুকি রয়েছে।

সব মিলিয়ে হাওরের অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙ্গে গেলে এ অঞ্চলে বাড়বে  অপরাধ প্রবণতা, পাশাপাশি প্রভার পড়বে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তার উপর।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন