সুন্দরবনে ৪ বাহিনীর যৌথ অভিযান: দস্যুমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
মো: রাজ হাওলাদার, মোংলা প্রতিনিধি
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করতে এবং বনজীবী ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অভিনব ও শক্তিশালী অভিযানে নেমেছে দেশের চার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌ-বাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ‘যৌথ টহল’ পরিচালিত হয়েছে।
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার (বিএন) সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূল করতে কোস্ট গার্ড বর্তমানে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে— ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’। রবিবারের যৌথ টহল ছিল এই ধারাবাহিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।
বিগত এক বছরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে সুন্দরবনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত একাধিক বাহিনীর পতন ঘটেছে।
আটককৃতরা হলেন।
করিম শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, দুলাভাই ও আসাবুর বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যু দলের ৪০ জন সক্রিয় সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
অভিযানে ৪৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৪৮৫ রাউন্ড কার্তুজ এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শনাক্ত করা হয়েছে দস্যুদের গোপন আস্তানা এবং সেগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
দস্যুদের হাত থেকে ৩৭ জন জেলে, ২ জন পর্যটক এবং ১ জন রিসোর্ট মালিককে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, বর্তমানে সুন্দরবনের ভেতরে ও আশপাশের নদী-খালে নজরদারি আগের চেয়ে বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। কেবল অভিযান নয়, সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে বাহিনীগুলো। বনজীবীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত না করা পর্যন্ত কোস্ট গার্ডের এই কঠোর অবস্থান এবং যৌথ বাহিনীর এ ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কঠোর অবস্থানে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও বনজীবীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।