কুবির আবাসিক হলে সবুজের ছোঁয়া
বাবলু দেব, কুবি প্রতিনিধি:
ইট-পাথরের তৈরি চার দেয়ালের মাঝে বন্দি ছাত্রজীবন মানেই শুধু বইয়ের পাহাড় আর অ্যাসাইনমেন্টের ব্যস্ততা নয়। বরং সেই ব্যস্ত জীবনে একটুখানি সজীবতা আর প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পাওয়ার নামই এখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর প্রতিটি কক্ষ এখন যেন একেকটি ছোটোখাটো বৃক্ষে শোভিত অরণ্য।
জানালার ধার, বারান্দা, পড়ার টেবিল কিংবা ঘরের দেয়াল— সবখানেই শোভা পাচ্ছে নানা প্রজাতির ইনডোর প্ল্যান্ট। সবুজে ঘেরা এমন নান্দনিক দৃশ্য দেখলে যে কারো চোখ আটকে যাবে মুহূর্তেই।
আবাসিক জীবনকে আরও প্রাণবন্ত ও রঙিন করে তুলতে শিক্ষার্থীদের মাঝে দিন দিন বাড়ছে ইনডোর প্ল্যান্ট সংগ্রহের প্রবণতা। ক্যাম্পাসের পড়াশোনার চাপ আর শহুরে যান্ত্রিকতার মাঝে এই গাছগুলোই হয়ে উঠেছে তাদের মানসিক প্রশান্তির পরম সঙ্গী। মূলত একঘেয়েমি কাটাতে এবং নিজেদের থাকার পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর করে তুলতেই শিক্ষার্থীরা বেছে নিচ্ছেন এই সবুজ সমাধান।
শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেউ পরিবারের বড়োদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে, আবার কেউ সিনিয়র ভাই বা বন্ধুদের দেখে এই বাগান করায় আগ্রহী কুড়িয়েছেন। অনেকে আবার অনলাইন বা ইউটিউবে ইনডোর প্ল্যান্টের ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের রুম সাজানো শুরু করেছেন। প্রয়োজনীয় গাছগুলো তারা সংগ্রহ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের নার্সারি কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে।
শিক্ষার্থীদের সংগ্রহে থাকা উল্লেখযোগ্য গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে– স্নেক প্ল্যান্ট, মানিপ্ল্যান্ট এবং পিস লিলি, অ্যালোভেরা, রেন লিলি, বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস, গোলাপ ও অন্যান্য মৌসুমি ফুল।
গাছগুলোর সজীবতা ধরে রাখতে শিক্ষার্থীরা বেশ সচেতন। নিয়মিত পানি দেওয়া, পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জৈব সার প্রয়োগের মাধ্যমে তারা পরম মমতায় গাছগুলোর পরিচর্যা করছেন। অনেকে পড়ার টেবিলের পাশেই এমনভাবে গাছ সাজিয়েছেন যেন পড়তে পড়তে চোখ তুলে তাকালেই মেলে প্রশান্তি।
বিজয় ২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আবু হানিফ বলেন, "হলের ছোট কক্ষে দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা করলে অনেক সময় একঘেয়েমি চলে আসে। কিন্তু যখন আমি গাছের যত্ন নিই বা নতুন একটি পাতা গজালে সেটি দেখি, তখন নিজের মাঝে এক অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। এটি শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং পড়ার টেবিলের ক্লান্তি দূর করে মনকে সতেজ রাখে। পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে এই সবুজ প্রকৃতি আমার জন্য বড়ো টনিক হিসেবে কাজ করে।"
কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী জয়ন্ত কর্মকার বলেন, 'শহুরে জীবনে মাটির ছোঁয়া পাওয়া কঠিন, তাই ঘরের ভেতর ছোট ছোট টবে এই বাগান করা। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে যখন দেখি আমার ছোট ক্যাক্টাস বা মানিপ্ল্যান্টটা সতেজ হয়ে আছে, তখন সারাদিনের জন্য একটা পজিটিভ এনার্জি পাই। ইনডোর প্ল্যান্টগুলো ঘরের বাতাসকে যেমন বিশুদ্ধ রাখছে, তেমনি আমাদের মানসিক চাপ কমাতেও দারুণ ভূমিকা রাখছে। এখন আমাদের হলের অনেক রুমই একেকটা অক্সিজেন চেম্বার হয়ে উঠেছে।'
এসব গাছ কেবল হলের কক্ষের সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, বরং ঘরের পরিবেশ বিশুদ্ধ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, যান্ত্রিক জীবনে এক চিমটি সবুজ তাদের পড়াশোনার মনোযোগ বাড়াতে এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করছে।