খুলনায় যুবককে গুলি, ঢাকা নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা
**মো: আল-মাহফুজ শাওন **
খুলনায় রাজু হাওলাদার (৩৮) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে একটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ঘটনাটি জানাজানি হয়। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করেও আবার গুলি চালানো হয়েছে।
সোমবার (৪ এপ্রিল) মহানগরীর লবণচরা থানার কোবা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে গুলির সঠিক সময় কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।
আহত রাজু হাওলাদার লবণচরা থানাধীন শিপইয়ার্ড এলাকার আজাদ মাস্টার সংলগ্ন ইউনুস হাওলাদারের ছেলে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রাজুকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সোমবার রাতেই তাকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজু গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এক পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার সঙ্গে থাকা এক নারী জানান, আহত ব্যক্তি তার ছেলের বন্ধু।
রাত সাড়ে ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা আবারও অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. ফারুক বলেন, “খুলনা মেডিকেল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ করে গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলি গাড়িতে লাগলে আমি দ্রুত কাটাখালী হাইওয়ে থানায় আশ্রয় নিই।”
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহম্মেদ বলেন, “গুলিবিদ্ধ একজন রোগীকে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে পুলিশি সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিরাপদে এলাকা পার করে দেওয়া হয়।”
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম জানান, “লবণচরা এলাকায় এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে ঠিক কোথায় এবং কখন তার ওপর হামলা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার তথ্য পেয়েছি।”
একই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে দুই দফা গুলি—প্রথমে এলাকায় এবং পরে অ্যাম্বুলেন্সে হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।