চাচা ভাতিজা পালিয়েছে ৫০ হাজার ইয়াবা নিয়ে
এইচ এম ফরিদুল আলম শাহীন, কক্সবাজার
বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের ইয়াবা ডিলার বিজিবির অভিযান টের পেয়েই ৫০ হাজার নিয়ে কৌশলে পালিয়ে গেছে সোহেল - কামরুল।
কক্সবাজার জেলার রামু গর্জনিয়া সীমান্তের মাদক চোরাকারবারী সোহেল সিকদার ও তার ভাতিজা কামরুল সিকদার শত কোটি টাকার প্রাসাদ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন ।
গত সরকারের আমলে একচেটিয়া সীমান্ত চোরাচালান ও মাদক পাচার করে শূন্য থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন চাচা ভাতিজা।
গত সোমবার ৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে বিজিবি তাদের অবস্থান সনাক্ত করে অভিযানে নামেন।
এসময় তাদের সাথে ছিলো ৫০ হাজার ইয়াবা। নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি’র আভিযানিক দল গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সমগ্র বাড়ি তল্লাশী চালিয়েও তাদের আটক করতে ব্যার্থ হয়। ফলে উদ্ধার হয়নি এই বিপুল সংখ্যক মাদকও। ৪ মে সোমবার রাতে রামুর কচ্ছপিয়ার ৩নং ওয়ার্ড তিতারপাড়াস্থ চিহ্নিত মাদক-চোরাকারবারী আওয়ামীলীগ নেতা সোহেল সিকদার ও কামরুল সিকদারের বাড়িতে চলে এই অভিযান।
সূত্রের দাবী- ৪ মে রবিবার দিনে সিএনজি চালক আব্দুল মান্নানের মালিকানাধীন সিএনজিতে আসছে সোহেল-কামরুলের ৫০ হাজার পিস ইয়াবা। ইয়াবা সহ এই গাড়ি হাইস্কুল পাড়া থেকে গর্জনিয়া বাজারের দিকে যাচ্ছিলো। এসময় গাড়িটি কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ডাক বাংলো মোড় পর্যন্ত পৌঁছালে জড়িতরা ইয়াবাগুলো নামিয়ে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। পরে নাইক্ষ্যংছড়ি v বিজিবি জড়িতদের বাড়িতে ঘন্টাব্যাপী অভিযান চালায়। কিন্তু বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় সোহেল-কামরুল সহ সিন্ডিকেটের অপরাপর সদস্যরা। এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন- আভিযানিক দলে থাকা বিজিবি সদস্য ও গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আনিসুল ইসলাম।
রামু গর্জনিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির শীর্ষ চোরাচালান ও মাদক কারবারী সোহেল সিকদার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়ার ইসলাম মিয়া সিকদারের পুত্র। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক চোরাচালান ও মাদকের মামলা। অপর পলাতক কামরুল ইসলাম সিকদারও একই এলাকার মৃত সালাহ উদ্দিনের পুত্র। তারা সম্পর্কে চাচা ও ভাতিজা।
স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন গত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ ৫ বছরে সীমান্তের চোরাচালান ও মাদক নিয়ন্ত্রণ করতেন সোহেল, কামরুল, নজরুল ও শাহীন ডাকাত।শাহীন ডাকাত গত এক বছর ধরে জেলে থাকায় সোহেল, কামরুল ও নজরুলের নেতৃত্বে চলছে মাদক পাচার ও চোরাচালান বানিজ্য। সীমান্তে গরু পাচার, বাংলাদেশ থেকে জালানী তেল, ভোজ্যতেল, ঔষধ, রড়, সিমেন্ট ও অন্যান্য মালামাল মিয়ানমারের আরকান আর্মির সহায়তায় পাঠানো হচ্ছে। আর বিনিময়ে আসছে গরু ও মাদক যেমন ইয়াবা আইচসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য।