মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষক নিয়োগ এখন সময়ের দাবি
ক্লাসে নিয়মিত চুপচাপ বসে থাকা শিক্ষার্থীটির ভেতরে হয়তো চলছিল ভয়ংকর এক মানসিক লড়াই, যা কেউ বুঝতেই পারেনি। বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও অনেক শিক্ষার্থী নীরবে উদ্বেগ, হতাশা, একাকীত্ব ও মানসিক চাপে ভুগছে। অথচ তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার মতো মানুষ অনেক সময় আশপাশে থাকে না।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে, তখন তারা জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বয়সসন্ধিকালে পদার্পণ করে। বয়সসন্ধিকালের এই সময়টি শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন নতুন সুযোগ, সম্ভাবনা, আশা ও স্বপ্নের দ্বার উন্মোচন করে, তেমনি অনিশ্চয়তা, হতাশা ও মানসিক চাপেরও সূচনা ঘটায়।
এই সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা পেলে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সুন্দর ও সুগম হতে পারে। আবার একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা অবহেলা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। বর্তমান সময়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতিও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, একাকীত্ব এবং ঘুমজনিত সমস্যার হার দিন দিন বাড়ছে। বয়সসন্ধিকালের পরিবর্তন, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ, ভালো ফলাফলের অতিরিক্ত চাপ, সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আবেগজনিত সম্পর্কগত টানাপোড়েন এসব কারণে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এই মানসিক সংকট আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনার দিকেও ঠেলে দিচ্ছে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, শিক্ষার্থীদের এই মানসিক সমস্যাগুলো সহানুভূতির সঙ্গে শোনার মতো মানুষ অনেক সময় তাদের আশপাশে থাকে না। বাবা-মা, ভাইবোন, সহপাঠী কিংবা শিক্ষক অনেকেই মানসিক সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন না। ফলে শিক্ষার্থীরা নীরবে মানসিক যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যেতে থাকে।
মানসিক সমস্যা শিক্ষার্থীদের জীবনে এক ধরনের নীরব ঘাতক হিসেবে কাজ করছে। তাই এসব সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে অন্তত একজন প্রশিক্ষিত মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষক বা মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কারন শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা নয় বরং একজন সুস্থ, সচেতন ও মানসিকভাবে শক্তিশালী মানুষ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে না পারলে আগামীদিনে সমাজ সুস্থ থাকবে না, কারন একজন মানুষ কতটা কর্মক্ষমতা সম্পন্ন সেটা অনেকাংশে নির্ভর করে তার মানসিক সুস্থতার উপর সুতরাং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষক নিয়োগ আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই।
লেখক:আসিফ আহাম্মেদ
শিক্ষার্থী
উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া।