পুত্রবধূকে ‘লালসার শিকার’ বানানোর অভিযোগ: যশোরে ওয়ার্ড বিএনপি নেতার কাণ্ডে তোলপাড়
মেহেদী হাসান রিপন,স্টাফ রিপোর্টার:
যশোরের বসুন্দিয়ায় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে নিজ পুত্রবধূকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম হারুন-অর-রশীদ, যিনি সদর উপজেলার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও জনরোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর স্বজন ও এলাকাবাসীর দাবি, হারুন-অর-রশীদ তার প্রবাসী ছেলের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে পুত্রবধূকে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি করে রেখেছিলেন। ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই গৃহবধূকে নিয়মিত ধর্ষণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের নজরে এলে থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত নেতা ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মুখ না খুলতে শাসাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
শনিবার বিকেলে ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে পদ্মবিলা বাজারের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হারুনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা আপাতত শান্ত হয়।
বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান জানান, বিষয়টি দলীয় হাইকমান্ড গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রতিনিধি দল কাজ শুরু করেছে।যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "আমরা অভিযোগটি খতিয়ে দেখছি। রোববারের মধ্যেই তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।"
পুরো বিষয়টি নিয়ে হারুন-অর-রশীদের বক্তব্য নিতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে তিনি দ্রুত ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং আত্মগোপনে চলে যান।পরিবার ও এলাকাবাসীর একটাই দাবি— রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীকে আড়াল করার ঢাল না হয়। তারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।