তাড়াইলে জ্বালানি সংকট: পরিবহন ব্যাহত, আড়তে পড়ে রয়েছে মিষ্টি কুমড়ার স্তুপ
রুহুল আমিন, তাড়াইল (কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় চালকরা প্রায় ২০ কিমি দূরের ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল বা ৩০ কিমি দূরের কিশোরগঞ্জ সদর থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ সময় প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাওয়া যায় না বা সীমিত পরিমাণে পাওয়া যায়, যা স্থানীয় পরিবহন ও পণ্য সরবরাহে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
উপজেলায় পেট্রোল পাম্প না থাকায় চালকদের পার্শ্ববর্তী উপজেলা বা জেলা থেকে জ্বালানি আনতে হয়। এতে সময় ও খরচ—দুই-ই বেড়ে যাচ্ছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পরিবহন সংকটের কারণে কৃষি পণ্যও আড়তে পড়ে থাকছে। বিশেষ করে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষক ও আড়ৎদাররা। তাড়াইল উপজেলা সদরের মাদরাসা মার্কেটের কাঁচামালের আড়তে বিপুল পরিমাণ মিষ্টি কুমড়া স্তুপ করে রাখা রয়েছে, যা সময়মতো বাজারে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সিএনজি, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকরা ভাড়া ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার ফলে নিত্যদিনের যাতায়াতে বাড়তি চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
ট্রাক চালক জাকিরুল ইসলাম বলেন, তাড়াইল মাদ্রাসা মার্কেটের কাঁচামালের আড়ৎ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মালামাল পরিবহনের জন্য যতটুকু জ্বালানি দরকার,আমরা তা পাই না। মাঝে মাঝে বাধ্য হয়ে রাস্তার ধারে কালোবাজার থেকে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে হয়। এতে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না,খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
তাড়াইল উপজেলা বাস-ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান,বর্তমান পরিবহন সংকটের কারণে নিয়মিত ট্রিপ কমে গেছে। এতে শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়ছেন, আর দালালরা অবসর সময় পার করছেন। তারা সতর্ক করেছেন,পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে পরিবহন খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
মাদরাসা মার্কেটের কাঁচামালের আড়ৎদার আবদুল আজিজ মিয়া বলেন,জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। আগে যেখানে সহজে এবং কম খরচে পণ্য আনা-নেওয়া করা যেত, এখন অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। পরিবহন না থাকায় মিষ্টি কুমড়া সহ অনেক পণ্য আড়তেই পড়ে আছে, যা বড় ক্ষতির কারণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন,দীর্ঘমেয়াদে তাড়াইলে স্থায়ীভাবে পেট্রোল পাম্প স্থাপন,জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং পরিবহন খাতে নিয়মিত মনিটরিং জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।