মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
সারাদেশ

অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাওর মন্ত্রণালয় চেয়ে ভাইরাল

অনলাইন ডেস্ক ১৯ May ২০২৬ · Tuesday · ০৩:২৭ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রাম সদর ইউপি চেয়ারম্যান হাওর মন্ত্রণালয় চেয়ে ভাইরাল

মোঃঝুটন মিয়া অষ্টগ্রাম কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলার সদর ইউপি  চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়েজ হাসান বাবুর  Facebook Account এর দুইটি পোস্ট ভাইরাল স্বতন্ত্র "হাওর মন্ত্রণালয়" কেন আজ অপরিহার্য?

গত ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ইং তারিখ হাওরে বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ও স্থায়ী উন্নয়নের জন্য  সর্বপ্রথম তিনি "হাওর মন্ত্রণালয়" দাবী করেন। এই পোস্টটি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় এবং অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান অষ্টগ্রাম উপজেলা অডিটোরিয়ামের বক্তব্যে বলেন আপনাদের চেয়ারম্যান আমার ভাই বাবু ফেইসবুক "হাওর মন্ত্রণালয়" দাবীকরে যে পোস্ট করেছে সেটা আমার  অনেক ভালো লেগেছে। আমি সংসদ অধিবেশনে আমার বক্তব্যে তা তুলে ধরবো এবং তিনি সংসদে তার বক্তব্যে হাওরাঞ্চলকে রক্ষাকরতে "হাওর মন্ত্রণালয়" করতে হবে বলে দাবী রাখেন। এতে চেয়ারম্যান সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান বাবু, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন সহ গোটা হাওরাঞ্চলের মানুষ ফজলুর রহমান কে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান  অবহেলিত হাওরবাসীর প্রানের এই দাবি "হাওর মন্ত্রণালয়"গঠন করবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।

একটি স্বতন্ত্র "হাওর মন্ত্রণালয়" কেন আজ অপরিহার্য?

হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটাতে কেন আলাদা একটি "হাওর মন্ত্রণালয়" প্রয়োজন, তার বাস্তব উদাহরণ হলো আজকে বাঙ্গালপাড়ার নদী ভাঙন।

আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান ভাই যখন অষ্টগ্রাম-চাতলপার সড়ক ও বিভিন্ন গ্রাম ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার জন্য এলজিআরডি (LGRD) মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেন, তখন সেখান থেকে বলা হয় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে কথা বলতে। তিনি যখন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে যান, তারা আবার বলে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে কথা বলতে।এই যে তিন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় আর ফাইল চালাচালির বিড়ম্বনার-মাশুল দিতে গিয়ে আজ আমাদের প্রায় হাজর কোটি টাকার সম্পদ ঘরবাড়ি ও রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে!

আজ যদি আলাদা "হাওর মন্ত্রণালয়" থাকতো তাতে কী হতো? তিন মন্ত্রণালয়ে দৌড়াদৌড়ি না করে একটি মাত্র মন্ত্রণালয়ের একক নির্দেশে তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা যেত।

হাওরে বিজ্ঞান ভিত্তিক টেকসই, স্থায়ী উন্নয়ন,বাঁধ, সড়ক, কৃষি ও কৃষকের নিরাপত্তা একই ছাতার নিচে চলে আসত, ফলে কোনো কাজই ঝুলে থাকত না। সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারলে হাজার কোটি টাকার সরকারি ও জনসাধারনের সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হতো।

হাওরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সমতল ভূমি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, তাই এর সমস্যা সমাধানের পদ্ধতিও হতে হবে স্বতন্ত্র। আসুন  কারো প্রতি ব্যাক্তি Jealous feel না করে আমরা সবাই 

  হাওরের সন্তান হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় এই দাবি আদায়ে সোচ্চার হই। আমরা যদি যার যার অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলি, তবেই আমাদের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান তার অন্যান্য (এমপি) সহকর্মীদের নিয়ে হাওরান্চলের বাস্তব ও যৌক্তিক  দাবি গুলো বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

আসুন, ব্যাক্তি সার্থের চেয়ে হাওরের স্বার্থকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আমরা সবাই কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই। আর নিম্নের দাবীগুলো বাস্তবায়নের লক্ষে কিশোরগঞ্জ,নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও বিবাড়িয়া এই সাত জেলার হাওরাঞ্চল কেন্দ্রিক যে সকল মাননীয় সংসদ সদস্য রয়েছেন তাদের অবহিত করি,যেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ন্যায় হাওরাঞ্চলের জজ্যেও পৃথক "হাওর মন্ত্রণালয়" গঠনে উদ্যোগী হন। এবং হাওরাঞ্চলকে বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ও স্থায়ী উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় আনতে হাওরাঞ্চলের যৌক্তিক দাবি সমূহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে সহজে উপস্থাপন করতে পারেন:>

১. স্বতন্ত্র ‘হাওর বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন: সংকট নিরসন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে পৃথক "হাওর মন্ত্রণালয়" গঠন করা।

২. টেকসই ফসল রক্ষা বাঁধ: দুর্নীতির বাঁধ নয়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক বাঁধ নির্মাণ করা।

৩. নদী ও খাল পুনঃখনন: হাওরে দখল হয়ে যাওয়া খাল, বিল ও নদী পুনরুদ্ধার করে সীমানা নির্ধারণ এবং নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করা।

৪. কৃষির আধুনিকায়ন: চৈত্র মাসে কর্তনযোগ্য স্বল্পমেয়াদী ধানবীজ সরবরাহ, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন এবং কৃষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

৫. নিরাপত্তা ও আশ্রয়: বজ্রপাত নিরোধক দণ্ডসহ হাওরের বিভিন্ন পয়েন্টে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ছোট ছোট আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা।

৬. বৈপ্লবিক যোগাযোগ: হাওরাঞ্চলের সকল উপজেলার সাথে স্ব-স্ব জেলা সদরের নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং "বাজিতপুর-অষ্টগ্রাম-লাখাই" সড়ককে ঢাকা-ময়মনসিংহ-সিলেট সংযোগকারী ‘বাইপাস মহাসড়কে’ উন্নীত করা।

৭. শিক্ষা ও চিকিৎসা: হাওরে বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, হাওর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উপজেলাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (ভোকেশনাল) স্থাপন করা।

৮. শিল্পায়ন ও সংরক্ষণ: মাছ ও ফসল সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ (হিমাগার) স্থাপন এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্পান্চল গড়ে তোলা।

৯. পরিবেশবান্ধব পর্যটন: হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন এবং হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনায়ন কর্মসূচি জোরদার করা।

আমি জনতার একজন সাধারণ  কর্মচারী ও জাতীয়তাবাদী দলের একজন কর্মী এবং হাওরের সন্তান   হিসাবে আরজ গুজার করছি,,, 

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

ঈদের ভিজিএফের চাল পাচারের অভিযোগে, জব্দ ৭০ বস্তা চাল এতিমখানায় দিল প্রশাসন

ঈদের ভিজিএফের চাল পাচারের অভিযোগে, জব্দ ৭০ বস্তা চাল এতিমখানায় দিল প্রশাসন

আল-আমিন হাসান, নিকলী উপজেলা প্রতিনিধি:কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা-এর কারপাশা ইউনিয়নে পবিত্র ঈ...

১৯ May ২০২৬ · Tuesday · ০৩:৩৪ অপরাহ্ণ
তাহিরপুরে বাণিজ্য এলাকা বাদাঘাট ইউনিয়নে ইয়াবাসহ তিন শীর্ষ মাদক কারবারি আটক

তাহিরপুরে বাণিজ্য এলাকা বাদাঘাট ইউনিয়নে ইয়াবাসহ তিন শীর্ষ মাদক কারবারি আটক

মুরাদ মিয়া,তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ:তাহিরপুরে বাণিজ্য এলাকা বাদাঘাট ইউনিয়নে ৫২ পিস ইয়াবাসহ হা...

১৯ May ২০২৬ · Tuesday · ০৩:৩১ অপরাহ্ণ