বকশীগঞ্জে ছাগল চুরির ঘটনায় উত্তেজনা: উদ্ধার হওয়া ছাগলের মালিককে প্রাণনাশের হুমকি
সামরুল হক,নিজস্ব প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নে একটি ছাগল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চুরি হওয়া ছাগলটি বাজারে বিক্রি করার সময় মালিকের হাতে ধরা পড়লেও, পরবর্তীতে ছাগলের মালিককে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্ত ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গভীর রাতে ছাগল চুরি ও বাজারে শনাক্ত:
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২০ মে, ২০২৬) গভীর রাতে আনুমানিক ৩:৩০ থেকে ৪:০০ টার মধ্যে মেরুরচর ইউনিয়নের মেরুরচর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আনছার আলীর একটি পালিত ছাগল গোয়াল ঘর থেকে নিখোঁজ হয়। সকাল থেকে ছাগলটির সন্ধানে মালিক ও তার স্বজনরা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে তারা খবর পান যে, পার্শ্ববর্তী ঝগড়ার চর বাজারে এক ব্যক্তি একটি ছাগল বিক্রির চেষ্টা করছেন। খবর পেয়ে ছাগলের মালিক মোঃ আনছার আলী দ্রুত ঝগড়ার চর বাজারে পৌঁছান এবং নিজের ছাগলটি শনাক্ত করেন।
মালিককে দেখে অভিযুক্তের পলায়ন:
অভিযোগ রয়েছে, ঝগড়ার চর বাজারে ছাগলটি বিক্রির চেষ্টা করছিলেন একই এলাকার দানেছের ছেলে ও আইয়ুব খানের চাচাতো ভাই বাবুল। ছাগলের মালিক আনছার আলীকে ঘটনাস্থলে আসতে দেখে এবং ছাগল শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হতেই অভিযুক্ত বাবুল ছাগলটি বাজারে রেখেই দ্রুত লোকচক্ষুর আড়ালে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ছাগলটি উদ্ধার করে মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়।
ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ ও সময় প্রার্থনা:
ছাগল উদ্ধারের পর বিষয়টি নিয়ে মেরুরচর ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয়ভাবে একটি সমঝোতা বৈঠক বা সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে মেরুরচর ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান মঞ্জু এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত বাবুলের পক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) শাহিন আলম বিষয়টি পারিবারিকভাবে ও স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য দুই দিনের সময় চেয়ে নেন।
জুমার নামাজে যাওয়ার পথে প্রাণনাশের হুমকি:
ইউনিয়ন পরিষদে মীমাংসার প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও আজ শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সহিংস রূপ নেয়। ভুক্তভোগী আনছার আলীর অভিযোগ, আজ দুপুরে তিনি যখন জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে যাচ্ছিলেন, তখন পথিমধ্যে অভিযুক্ত বাবুল ও তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য তার ওপর চড়াও হন।
তারা আনছার আলীকে লক্ষ্য করে চরম অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। প্রকাশ্য রাস্তায় এই হুমকির ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী আনছার আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
> **ভুক্তভোগী মোঃ আনছার আলী বলেন,** "আমার ছাগল চুরি করে বাজারে বিক্রির সময় ধরা পড়ার পর এখন উল্টো আমাকে ও আমার পরিবারকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।"
জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি:
হুমকির ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহিন আলম এবং ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। জনপ্রতিনিধিরা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ভুক্তভোগীকে কোনো প্রকার আপস না করে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে একটি সাধারণ ছাগল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ ও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, চুরির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যেন ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের সাহস না পায়।