রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি বিক্রি করলেন মৃত ব্যক্তি!

Admin ০৯ April ২০২৬ · Thursday · ০২:১৬ অপরাহ্ণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি বিক্রি করলেন মৃত ব্যক্তি!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জমি বিক্রি করলেন মৃত ব্যক্তি!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি: 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘জাল দলিলের’ মাধ্যমে ঋষি সম্প্রদায়ের কয়েকজনের জমি দখলের পায়তারার অভিযোগ আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। 
কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের লক্ষীমোড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন যে দলিল করেছেন তাতে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে।
এ নিয়ে আদালতেও মামলা চলমান। আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ অবস্থাতেই ৭৭ শতাংশ জমি দখলের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এতে আতঙ্কিত ঋষি সম্প্রদায়ের লোকজন।
জাল দলিল করে জায়গা দখলের পায়তারার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার আদালতে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কাগজপত্র ঘেঁটে ও মামলার অভিযোগে দেখা যায়, ক্রয় সূত্রে রমেশ ঋষি ২০০৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলার মেরুরা মৌজায় ৭৭ শতক নাল জমির মালিক হন। রমেশ ঋষি মারা গেলে তার ছেলেরা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হয়ে এসব জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলাদি রূপন করেন। তিন-চারদিন আগে আনোয়ার নামে এক ব্যক্তি এসে ওই জমিতে সীমানা পিলার বসিয়ে দেয় এবং এখান থেকে যেন কেউ ধান না কাটে সে হুমকি দিয়ে যায়। তিনি ওই জমির মালিক দাবি করে দলিল দেখান।
আনোয়ার হোসেনের দলিল অনুযায়ি, ২০২৩ সালে ১৪ নভেম্বর তিনি জায়গাটি কিনেছেন। রমেশ ঋষি যাদের কাছ থেকে কিনেছেন তাদের কাছ থেকেই তিনি এটি কিনেন এবং পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ি তিনি নাম খারিজও করেছেন। তবে জমির মালিকদের মধ্যে সুজন ঋষি, সুমন ঋষি, কমল ঋষি, জুয়েল ঋষি জানান, আনোয়ার হোসেনের দলিলটি ভুয়া। ওই দলিলের কথিত ছয়জন দাতার মধ্যে অনিল কান্তি রায় ও অজিত কুমার রায় দাবিকৃত দলিল হওয়ার আগেই মারা গেছেন। অজিত কুমার রায় ২০০৮ সালে ২০ মে ও অনিল কান্তি রায় ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি মারা যান। জমির দলিলে ছয়জনের স্বাক্ষর যে একই হাতে তা স্পষ্টই বুঝা যায়। এছাড়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়েও এ ধরণের দলিলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এখন ভুয়া দলিল দেখিয়ে জোর করে জায়গা দখলের পায়তারা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে প্রতিবেদক ফোন দেন। সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ওপ্রান্ত থেকে বলা হয়,
‘ওনি এখানে নাই। মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে গেছেন। পরে কল দেন।’ পওে আরো কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সন্ধ্যা পৌণে ছয়টার দিকে ফোন করলে ওইপ্রান্ত থেকে জানানো হয়, আনোয়ার হোসেন হাসপাতালে গেছেন। ওনার সন্তারের শরীর ভালো না।
এদিকে বুধবার আরেক সাংবাদিকের কাছে তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালে নয় ২০১২ সালেই জায়গা কিনেছেন। তার কাছে সব কাগজপত্র রয়েছে।’ কিন্তু দলিল ২০২৩ সালের- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি লেখাপড়া জানি না।’
ওই দলিলে স্বাক্ষর থাকা ছয়জন দাতার মধ্যে দলিল রেজিস্ট্রির আগেই দু’জন মারা গেছেন- এ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা: রহস্য উদঘাটন না হলে এমপি পদ ছাড়বেন ফজলুর রহমান

বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হত্যা: রহস্য উদঘাটন না হলে এমপি পদ ছাড়বেন ফজলুর রহমান

বিজয় কর রতন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা...

২৬ July ২০২৬ · Sunday · ১২:০৯ অপরাহ্ণ
মিঠামইনে নিহত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর স্মরণে নাগরিক শোকসভা, প্রশাসনকে  আল্টিমেটাম

মিঠামইনে নিহত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর স্মরণে নাগরিক শোকসভা, প্রশাসনকে আল্টিমেটাম

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত মো...

২৬ July ২০২৬ · Sunday · ১২:০৩ অপরাহ্ণ