গণতন্ত্রী পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত,সংগঠন শক্তিশালী করতে ঐক্যের আহ্বান
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে রাজধানীতে গণতন্ত্রী পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টার কিছু পর রাজধানীর মনিসিংহ ফরহাদ ট্রাস্ট মিলনায়তনের ৫ম তলার কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ সিকদারের সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন।
সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, রাজপথ ও নির্বাচনী মাঠে সফলতা অর্জনের জন্য দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আরও সক্রিয় ও উজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা বলেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণতন্ত্রী পার্টিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তার এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে গণতন্ত্রী পার্টিকে একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহের মধ্যে রয়েছে—
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলা, দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় অগ্রসর করতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখে বৃহত্তর জোট গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ, পার্টির শৃঙ্খলা রক্ষার্থে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা এবং ৫ আগস্ট পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিসমূহ বর্তমান সরকারের কাছে বাতিলের দাবি জানানো।
এছাড়া গণসংযোগ বৃদ্ধি, সদস্য সংগ্রহ অভিযান জোরদার, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সক্রিয়করণ, ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন, জাতীয় ছাত্র ঐক্য, যুব ঐক্য, শ্রমিক ঐক্য, মহিলা ঐক্য ও কৃষক ঐক্য গঠন এবং দেশের সকল জেলায় পূর্ণাঙ্গ অথবা এডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। শোক প্রস্তাবে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক মাহমুদুর রহমান বাবু, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আরশাদ হারুন, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একে এম শহীদুল ইসলাম, পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষাবিদ ফরিদ আহমেদ, সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সমাজসেবক আব্দুল আলীম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা যুগল সরকারসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী ও আত্মীয়-স্বজনদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং বিশিষ্ট জননেত্রী, একাধিকবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ন্যাপ নেত্রী আমিনা আহমেদের আত্নার শান্তি কামনা করে তাঁদের জন্য দোয়া করা হয়।
সভায় তাঁদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।