করিমগঞ্জে পিঠা উৎসব, ফুটে উঠেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য
এম এ জলিল,করিমগঞ্জ (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে ড্রীম সাকসেস কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। পিঠা উৎসবকে ঘিরে ফুটে উঠে গ্রামীণ ঐতিহ্য।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে স্কুল প্রাঙ্গনে ফিতা কেটে এ পিঠা উৎসবের শুভ উদ্বোধন করা হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ পিঠা উৎসব চলে। পিঠা উৎসবকে ঘিরে আশে পাশের কয়েক ইউনিয়নের সাধারণ লোকজনসহ কয়েক হাজার ছাত্র-অভিভাবকদের যেন এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে।
উপজেলা স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ড্রীম সাকসেস কিন্ডারগার্টেন কতৃক আয়োজিত উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নে স্কুল প্রাঙ্গণে পিঠা উৎসব যেন বর্ণিল রঙে মেতে উঠে। পিঠা উৎসব এর শুরু থেকেই ছিল দর্শনার্থীদে উপচে পড়া ভিড় । পিঠা উৎসবে ২৯ ধরনের গ্রামীন ঐতিহ্যবাহী পিঠার বিশাল সমারোহ।
পিঠা উৎসব হরেক রকমের পিঠার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য পাটিসাপটা, কূলি পিঠা, ভাবা পিঠা, ঝাল পিঠা, চিতই পিঠা, পোয়া পিঠা ও রস পিঠাসহ নানা ধরনের পিঠা ও খাবার রয়েছে।
মোঃ মোবারক আলীর সঞ্চালনায় আয়োজন সংগঠনের সভাপতি নোয়াবাদ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তফা কালাল এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন জাকির হোসেন রবিন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান, জেলা জজ আদালতের এডভোকেট শফিউজ্জামান শফী, স্পেশাল পিপি (নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে ১, কিশোরগঞ্জ) এডভোকেট এম এ ছাজ্জাদুল হক (সাজ্জাদ), এডভোকেট সায়েম মজুমদার, জেলা দায়রা জজ আদালতের এপিপি মাজারুল ইসলাম প্রমূখ।
এসময় আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রতি বছরই পিঠা উৎসবের আয়োজন করার দাবী জানান অতিথি ও দর্শনার্থীরা। পিঠা উৎসবে বাহারী নামের ২৯ ধরনের সু-স্বাদু পিঠা অনেকে নিজে পিঠা খাওয়ার পাশাপাশি আবার আত্মীয় স্বজনদের জন্য উপহার সামগ্রী হিসেবে পিঠা নিয়ে যান অনেকে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ড্রীম সাকসেস কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক নাদিয়া আফরোজ ও মোঃ রুবেল জানান, আমরা স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক সবাই একটি পরিবারের মতো মিলেমিশে থাকি। যেকোনো প্রয়োজনে সবাই সবার পাশে থাকার চেষ্টা করি। বাংলা ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে এমন অনুষ্ঠান করে থাকি। যাতে কাজের পাশাপাশি আমাদের দেশীয় কালচার সম্পর্কে সকলে অবগতি থাকতে পারি।
প্রধান অতিথি এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা বলেন,এ রকম আয়োজনের মাধ্যমে যে ভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি হয়েছে, তা সবার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মূল্যবোধ ও আদর্শ অনুসরণ, মানবিক মর্যাদা বৃদ্ধি, সবার মধ্যে সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ তুলে ধরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বহির্বিশ্বে উজ্জ্বল করার জন্য নবপ্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশি সংস্কৃতি লালনে উৎসাহিত করার আহ্বানও জানান প্রধান অতিথি এড. জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা।