কুষ্টিয়ায় ১৯৬ টি অবৈধ ইট ভাটায় অবাধে পুড়ছে কাঠ,পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিরব
নজরুল ইসলাম মুকুল,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও কুষ্টিয়া জেলায় প্রতিটি ভাটার জন্য কমপক্ষে তিন থেকে চার একর উর্বর জমি নষ্ট হচ্ছে।
কুষ্টিয়ায় সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে বিপুল সংখ্যক ইটভাটা। পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকলেও অনেক ভাটামালিক প্রশাসনকে 'ম্যানেজ' করে দাপটের সঙ্গে ভাটা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে কৃষিজমি, উজাড় হচ্ছে বনসম্পদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় জনজীবন।
এ দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখে রয়েছে টিনের চশমা। বছর শেষে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইট ভাটাগুলো ধ্বংস করার কথা থাকলেও কথা রাখেনি পরিবেশ অধিদপ্তর।
সূত্র জানায়, জেলার ছয় উপজেলার ২১৩টি ইটভাটার মধ্যে বৈধ পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে মাত্র ১৭টির। বাকি ১৯৬টি ভাটা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বৈধ ভাটার মধ্যে ভেড়ামারায় ৩টি, দৌলতপুরে ১টি, কুমারখালীতে ৯টি এবং খোকসায় ৪টি। কুষ্টিয়া সদর ও মিরপুর উপজেলায় কোন বৈধ ইটভাটা নেই।
এর মধ্যে ২১টি ভাটার মালিক সুকৌশলে হাইকোর্টে রিট করে ভাটা চালু রাখেন। রিট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারছেনা বলে পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে। যেখানে প্রকাশ্যে কাঠ পুরানো হচ্ছে এবং কৃষি জমির মাটি কেটে ভাটা চালু রাখা হয়েছে সেখানে পরিবেশের ভারসাম্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কতটুকু বজায় রাখতে পারবেন তা নিয়ে চিন্তিত সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ( সিনিয়র কেমিস্ট) মোঃ হাবিবুল বাসার তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়াতে কর্মরত রয়েছেন এবং অভিযানের তিনি উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন। কোথায় ফাঁক ফোকর আছে এ বিষয়ে তিনি সবই অবগত। অবৈধ ইট ভাটা গুলো মোটা অংকের বিনিময়ে লোক দেখানো অভিযান চালানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে । ভাটা মালিক সমিতি চলতি বছরে এক কোটি টাকা আর্থিক সুবিধা দিয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত ২০ শতাংশ অবৈধ ইট ভাটা ধ্বংস করার জন্য কোন প্রস্তুতি নেইনি এই কর্মকর্তা। এদিকে ইটভাটার চলতি মৌসুম শেষ। নতুন মৌসুমের জন্য এক কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে ভাটা মালিক সমিতি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কৃষিজমি নষ্ট করে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ জেলায় প্রতিটি ভাটার জন্য কমপক্ষে তিন থেকে চার একর উর্বর জমি নষ্ট করা হয়েছে। ইট ভাটার মৌসুম শেষের দিকেও কৃষিজমি ও নদীর পলি মাটি কেটে নতুন ইট প্রস্তুত করছে ভাটাগুলো। এতে কমছে খাদ্যশস্য উৎপাদন, হুমকিতে পড়ছে কৃষি ও পরিবেশ। তাদের একটায় দাবী নতুন সরকার এদের বিরুদ্ধে কঠর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কুষ্টিয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিবেশ শুদ্ধ না হলে চলবেই অবৈধ ইটভাটা।
নাম বলতে অনিচ্ছুক একজন কৃষক জানান, "ইটভাটার কারণে আমাদের জমি নষ্ট হচ্ছে। কাঠ পুড়িয়ে গাছপালা উজাড় করছে। ভাটার কালো ধোঁয়া ও ছাই ফসল নষ্টসহ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বৈধ ভাটামালিক বলেন, "ভাটা মালিক সমিতির শক্তিশালী সিন্ডিকেট, তদবির এবং অর্থবিত্তের প্রভাবে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে না। আবার অনেকে হাইকোর্টে রিট করে জটিলতা তৈরি করেছে।"
কুষ্টিয়া ইটভাটা মালিক সমিতির একাংশের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলী মৌসুম শুরুতে একটি সংবাদের বক্তব্যে দাবি করেছিলেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৭৩টি ভাটার মধ্যে কয়েকটি ছাড়া সবাই কয়লা ব্যবহার করে। তবে পরিবেশ ছাড়পত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কারোই পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। আমরা নিয়মিত সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমল থেকেই বন্ধ। প্রতিবছর পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনকে কোটি টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেই ইটভাটা চালু রাখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ভাটার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় তাকে এক কোটি টাকা ব্যয় করে কুষ্টিয়া থেকে বিদায় করা হয়েছে। বর্তমান জেলা প্রশাসককেও ম্যানেজ করতে আমাদের একটি টিম মাঠে রয়েছে। তার কথা শুনে আসলে কি পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অবৈধ ইট ভাটা সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ( সিনিয়র কেমিস্ট) মোঃ হাবিবুল বাসারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক
মোঃ এমদাদুল হককে মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌহিদ বিন-হাসানকে মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি কলটি রিসিভ করেননি।