স্বল্প নিরাপত্তারক্ষীতে বিশাল ক্যাম্পাস: চাপ বাড়ছে, ঝুঁকিও স্পষ্ট রুয়েটে
মো:ইসমাইল,রুয়েট প্রতিনিধি :
রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ক্রমেই বাড়ছে চাপ। প্রায় ১৫২ একর বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী থাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তা শাখা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রুয়েটে আনসার সদস্য রয়েছেন মোট ৭৫ জন। এর মধ্যে প্লাটুন কমান্ডার ও সহকারী প্লাটুন কমান্ডার মিলিয়ে রয়েছেন মাত্র ৩ জন। তবে বার্ষিক ছুটি ও অন্যান্য কারণে নিয়মিত দায়িত্বে থাকেন গড়ে ৫০ থেকে ৫৪ জন সদস্য।
এছাড়া এই সদস্যদের মধ্যেও কিছু অংশ প্রশাসনিক ও সহায়ক কাজে নিয়োজিত থাকায় মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা আরও কমে যায়। তিন শিফটে দায়িত্ব বণ্টনের ফলে প্রতি শিফটে গড়ে প্রায় ১৮ জন সদস্য পুরো ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করেন, যা এত বড় একটি ক্যাম্পাসের জন্য যথেষ্ট নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৯টি নিরাপত্তা পোস্ট থাকলেও সবগুলোতে সমানভাবে জনবল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপাচার্যের বাসভবন, প্রধান ফটক, পকেট গেট ও আরএইচ গেটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে হওয়ায় অন্যান্য এলাকাগুলো তুলনামূলকভাবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ফলে বাস্তবে একজন নিরাপত্তারক্ষীকে একাধিক একর এলাকা তদারকি করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা দেখা দিচ্ছে। আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনে চুরির ঘটনা, ছোটখাটো সংঘর্ষ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির অভিযোগও বাড়ছে। পাশাপাশি চলমান নির্মাণকাজ, ক্যাম্পাসভিত্তিক স্কুল, ব্যাংক ও আবাসিক ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আইসিটি সেলের তথ্যমতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা নেই এবং বিদ্যমান ক্যামেরার একটি বড় অংশ অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার জানান, নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা মূলত সরকারি অনুমোদন ও বাজেটের ওপর নির্ভরশীল। বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী জনবল নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না, তবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা শাখার প্রধান আবুল হাশেম বলেন, বর্তমান জনবল দিয়ে কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন এবং অন্তত দ্বিগুণ নিরাপত্তারক্ষী প্রয়োজন। পাশাপাশি পুরো ক্যাম্পাসকে সিসিটিভির আওতায় আনা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজন এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা জরুরি। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার সচেতন অংশগ্রহণ অপরিহার্য।