ডুমুরিয়ায় নববর্ষে মৃৎশিল্পে মন্দা, ভিন জেলার পণ্যে জমজমাট বাজার
মো:আল-মাহফুজ শাওন
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সাধারণত মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা তুঙ্গে থাকার কথা। তবে খুলনার ডুমুরিয়ায় এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। উপযুক্ত মাটির অভাব ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক মৃৎশিল্পী পেশা ছেড়ে অন্য কাজে ঝুঁকছেন। ফলে স্থানীয়ভাবে তৈরি নান্দনিক মাটির পণ্যের পরিবর্তে ভিন্ন জেলার বাহারি পণ্যে ভরে উঠেছে বাজার।
উপজেলার বিভিন্ন পালপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই কারখানাগুলোতে। বর্তমানে শুধু হাঁড়ি-কলসিসহ কিছু সাধারণ তৈজসপত্র তৈরি হচ্ছে। অথচ বাজারে কুষ্টিয়া, পটুয়াখালী, বাউফল, ঝালকাঠি, বরিশাল ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা পান্তা-ইলিশের থালা, রঙিন কলস, মাটির ব্যাংক, খেলনা, ফুলদানি ও শোপিসের চাহিদা বেশি।
রানাই গ্রামের মৃৎশিল্পী সঞ্জয় পাল জানান, একসময় এ পেশার মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করতেন তাদের পূর্বপুরুষরা। কিন্তু এখন অধিকাংশই পেশা পরিবর্তন করেছেন। মৃৎশিল্পী রুপক পাল বলেন, আগের তুলনায় কিছুটা চাহিদা বাড়লেও প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে মাটির জিনিসের বাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
ডুমুরিয়া বারোআনি বাজারের ব্যবসায়ী অরুণ পাল জানান, নববর্ষ উপলক্ষে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন জেলা থেকে দৃষ্টিনন্দন মাটির পণ্য এনে বিক্রি করছেন তারা।
তবে সব প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু কারুশিল্পী এখনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা ও কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে।