কুষ্টিয়ায় পীর হত্যায় ২০০ জন আসামি, গ্রেপ্তারে মাঠে নামছে পুলিশ
নজরুল ইসলাম মুকুল কুষ্টিয়াঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীর’ শামীম রেজা (এনআইডি নাম: আব্দুর রহমান) হত্যাকাণ্ডের তিনদিন পর অবশেষে হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলাটি করেন। এতে রাজিব মিস্ত্রি (৩২) নামে এক যুবককে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রাজীব ওই এলাকার গাজী মিস্ত্রির ছেলে ও জামায়াতের কর্মী বলে জানা গেছে।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে নিহতের পরিবার শুরুতে মামলা করতে অনিচ্ছুক ছিল। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, এ ঘটনায় অন্তত দুটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, তাদের কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে এবং আরও কয়েকজনের পরিচয় নিশ্চিতের কাজ চলছে।
গত শনিবার দুপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে রাজিবসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে শতাধিক উচ্ছৃঙ্খল জনতা দরবারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা পীরকে কক্ষ থেকে টেনে বের করে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে হত্যা করে এবং পরে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। এরপর তারা দরবারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।
উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন বলেন, পুরো গ্রামবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে একত্রিত হয়েছিল এমনটাই আমরা শুনেছি।
অন্যদিকে স্থানীয় নেতা দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য (জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ দাবি করেন, রাজিবের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই, তবে নির্বাচনের সময় সে সহযোগিতা করেছিল।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার বলেন, এটি এলাকাবাসীর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের লোক থাকতে পারে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, মামলার প্রধান আসামি রাজিবকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও শতাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালাবে।