হোসেনপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে নানা আয়োজন
সঞ্জিত চন্দ্র শীল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে যেন আনন্দ, ঐতিহ্য আর বাঙালিয়ানার এক অপূর্ব মিলনমেলা বসেছিল। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উদযাপন ঘিরে পুরো উপজেলাজুড়ে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর ও প্রাণচঞ্চল পরিবেশ, যেখানে বয়স, পেশা কিংবা মতের ভিন্নতা ভুলে সবাই মেতে ওঠে একই আনন্দে।
মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে বের হয় এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ আর ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত শোভাযাত্রাটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবারও উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা-যেন এক স্রোতে মিলেছিল পুরো হোসেনপুর।
এরপর আসাদুজ্জামান খান অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের সুর, নৃত্য আর পরিবেশনায় প্রাণ ফিরে পায় বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি। অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাহিদ ইভা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহসী মাসনাদ, হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। তাঁদের উপস্থিতিতে উৎসবটি পায় আরও ব্যাপকতা ও গুরুত্ব।
অন্যদিকে, দিনব্যাপী বিভিন্ন দলীয় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজন করা হয় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও কনসার্ট। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে ছোট-বড় সবাই মেতে ওঠে কেনাকাটা, ঘুরে বেড়ানো আর আনন্দে।
এর আগে সকালে আয়োজিত পান্তা-ইলিশ ভোজে অংশ নেন আমন্ত্রিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা, যেখানে গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্বাদ যেন আরও গভীর করে তোলে এই উৎসবের আনন্দ। সব মিলিয়ে হোসেনপুরে পহেলা বৈশাখ ছিল শুধু একটি দিন নয়, এটি ছিল হৃদয়ের মিলন, সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ এবং নতুন স্বপ্ন দেখার এক অনন্য ক্ষণ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির একটি চিরন্তন উৎসব, যা সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করায়। তিনি হোসেনপুর উপজেলাবাসীকে আন্তরিক নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।