বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
সারাদেশ

জ্বালানি তেল যেন ‘সোনার হরিণ’, খুলনায় পাম্পে দীর্ঘ লাইন-হাহাকার

Admin ১৬ April ২০২৬ · Thursday · ০৫:১৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি তেল যেন ‘সোনার হরিণ’, খুলনায় পাম্পে দীর্ঘ লাইন-হাহাকার
জ্বালানি তেল যেন ‘সোনার হরিণ’, খুলনায় পাম্পে দীর্ঘ লাইন-হাহাকার

মো: আল-মাহফুজ শাওন : খুলনা

খুলনায় জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারিভাবে তেলের কোনো সংকট নেই বলা হলেও নগরীর পেট্রোল পাম্পগুলোর চিত্র ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রায় প্রতিটি পাম্পে দেখা গেছে মোটরযানের দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন।

নগরীর পাওয়ার হাউস মোড়ের কেসিসি পেট্রোলিয়াম, নিউ মার্কেটের মেট্রো ফিলিং স্টেশন, জয়বাংলা মোড়ের মারিয়া ফিলিং স্টেশন, খালিশপুর নতুন রাস্তার এলেনা ফিলিং স্টেশন ও লবণচরা-খাজুরা এলাকার আল আরফা ফিলিং স্টেশনে একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও সরবরাহ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক গ্রাহক ফিরে যাচ্ছেন হতাশ হয়ে।

ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে চরম ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে পাম্পে ভাঙচুর বা আগুন দেওয়ার হুমকিও দিচ্ছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক কর্মচারী মিজানুর রহমান বলেন, “তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাইনি। শেষ পর্যন্ত খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সুমন। তিনি বলেন, “এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিকেলেই অনেক পাম্প ‘তেল শেষ’ বলে বন্ধ করে দিচ্ছে।”

দৌলতপুরের এক গ্রাহক হাসিব আহমেদ প্রশ্ন তুলে বলেন, “সরকার বলছে সংকট নেই, তাহলে তেল যাচ্ছে কোথায়? নতুন অনেক যানবাহন দেখা যাচ্ছে, যাদের আগে দেখা যায়নি—এদের বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন।”

অন্যদিকে পাম্প মালিকরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত ও কালোবাজারে বিক্রি করায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। মারিয়া ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. মিজানুর রহমান জানান, “চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঠিক থাকলেও কিছু মানুষ একাধিকবার তেল নিচ্ছেন, এতে সাধারণ গ্রাহক বঞ্চিত হচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আতঙ্কের কারণেও মানুষ প্রয়োজনের বেশি তেল নিচ্ছে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।”

### 🔎 সংকটের নেপথ্যে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি কারণে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে—


- একই ব্যক্তি দিনে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করছেন

- মোটরসাইকেল ও সিএনজিতে অতিরিক্ত তেল নিয়ে সংরক্ষণ করা হচ্ছে

- গ্রামাঞ্চলে বেশি দামে বিক্রির জন্য তেল মজুত করা হচ্ছে

- নতুন কিছু যানবাহনের অস্বাভাবিক উপস্থিতি সন্দেহ তৈরি করছে
 


### ⚠️ সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা

পাম্পে তেল না পেয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কোথাও কোথাও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে এবং পাম্পে হামলা বা অগ্নিসংযোগের হুমকিও দেখা যাচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক।

### 🛠️ করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন—


- পাম্পভিত্তিক বিক্রির উপর কড়াকড়ি নজরদারি প্রয়োজন

- একাধিকবার তেল নেওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

- কালোবাজারি ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে হবে

- জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল ব্যবহারে সচেতন হতে হবে

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের অভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে খুলনায় জ্বালানি তেলের এই ‘সোনার হরিণ’ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

মন্তব্য

এখনও কোনো মন্তব্য নেই।

আরও পড়ুন

জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার,হয়রানিমূলক চাঁদাবাজির মামলা

জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার,হয়রানিমূলক চাঁদাবাজির মামলা

জামাল উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টার , কিশোরগঞ্জকিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের ভাস্করখিলা...

১৬ April ২০২৬ · Thursday · ০৬:৫২ পূর্বাহ্ণ